‘সংবিধানের ভেতরে থেকেই নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংলাপ হতে পারে’

 
বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য এস এম আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, উদ্ভুত রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সংলাপ অপরিহার্য। প্রশ্ন উঠেছে- সংলাপ কি নিয়ে? আমি মনে করি, বিদ্যমান সংবিধান পরিবর্তন বা সংশোধন না করেও নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে এই সংলাপ হতে পারে।
সোমবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে নিজ দলের একটি ফর্মুলার কথা জানিয়ে আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান দশম সংসদে ৭টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। এরমধ্যে নবম সংসদের সঙ্গে তুলনা করলে নতুন দল হিসেবে বর্তমানে আছে শুধু বিএনপি। আর নবম সংসদের বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এই চারটি দল দশম সংসদে নেই। নবম ও দশম সংসদে প্রতিনিধিত্ব দলগুলোর মধ্যে জামায়াতকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট ১০টি দল নিয়ে নির্বাচনকালীন ‘মাল্টিপার্টি গভর্ণমেন্ট’ গঠনের বিষয়ে সংলাপে একটি সমঝোতা হতে পারে। সেই সরকারের প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী-এক্ষেত্রেও সমঝোতা হতে হবে। এভাবে সমঝোতা হলে বিদ্যমান সংবিধানে কোনো ধরনের সংশোধনীরও প্রয়োজন হবে না, উচ্চ আদালতের রায়ও অক্ষুণ্ণ থাকবে।
তিনি বলেন, আমার এই প্রস্তাবটি রাজনৈতিক সমঝোতার একটি উপায় হতে পারে। নির্বাচন কখন হবে তা মূখ্য নয়। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সমঝোতায় আসা জরুরি। তা না হলে অর্থনৈতিক দিকসহ সকল দিক থেকে আমরা যেভাবে ডেডলক হয়ে যাচ্ছি- সেটির পরিণতি অনেক ভয়ঙ্কর হতে পারে।
‘এরশাদ গা বাঁচাতে চাচ্ছেন’
বিএনএফ চেয়ারম্যান বলেন, মন্ত্রিসভা থেকে জাতীয় পার্টি (জাপা) দ্রুত বের হবে বলে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং সকলকে এক টেবিলে আলোচনায় বসতে দলটির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের আহ্বান বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়, তা হলো-এরশাদ ও তার দল এখন গা বাঁচানোর পথ খুঁজছেন। তিনি যদি সত্যিই বিরোধী দল হতে চান তাহলে সবার আগে এরশাদের উচিত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ ছেড়ে দেয়া।