পুলিশের গুলিতে আহত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

 
রাজধানীর দক্ষিণখানের মধ্য আজমপুর এলাকায় সোমবার সকালে পুলিশের গুলিতে একজন ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী হাজী মোহাম্মদ ফায়েজ আলীকে (৫০) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করা হবে জানিয়েছেন দক্ষিণ খান থানার ওসি ।
দক্ষিণ খান থানার ওসি শামীম অর রশিদ বলেন, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর ১০ নম্বর রোডস্থ রেল লাইনের পুর্ব পাশে দক্ষিণখান থানাধীন মধ্য আজমপুর এলাকায় বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা পিকেটিং করছিল।  এসময় খবর পেয়ে দক্ষিণখান থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত হয়। পুলিশ হাজী ফায়েজকে আটক করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এসময় তারা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে এসআই জয়নাল আবেদীন ফায়েজকে জাপটে ধরে ফেলেন। ঐ ব্যক্তি পুলিশের কোমর থেকে পিস্তল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন। পিস্তল নিয়ে পুলিশ ও ঐ ব্যক্তির হাতাহাতির এক পর্যায়ে একটি গুলি বের হয়ে যায়। এতে ফায়েজ আলী গুলিবিদ্ধ হন।
তবে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ বিএনপি সমর্থক বলে ঐ ব্যবসায়ীকে ধরে কোমরে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেছে।
হাজী ফায়েজের ছেলে রাহাদুল ইসলামের অভিযোগ করেন, কোনো কারণ ছাড়াই এসআই জয়নাল মধ্য আজমপুরের মুন্সী মার্কেটের সামনে তার বাবাকে গুলি করেন। ধস্তাধস্তির কোন ঘটনাই ঘটেনি। তার বাবার আজমপুরের আইয়ুব মার্কেটে এমএস নিপু এন্টারপ্রাইজ নামের একটি রড-সিমেন্টের দোকান রয়েছে। মধ্য আজমপুরে তার বাড়ি।
হাসপাতালে ফায়েজের চিকিত্সার খোঁজ খবর নিতে আসা আত্মীয় নূরুল হাসান জানান, সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে তার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ফায়েজের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এসময় এসআই জয়নাল এসে ফায়েজের শার্ট ধরে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যেতে থাকে। এসআই জয়নাল তার কোমর থেকে পিস্তল নিয়ে পরপর দুই রাউন্ড গুলি করে। এই গুলিতে ফায়েজ আহত এবং আলম নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনার পর আশেপাশের লোকজন এসআই জয়নালকে ঘেরাও করে। এসময় জয়নালের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে আরেকটি পিস্তল বের করেন। পিস্তল উঁচিয়ে তিনি তার মোটরসাইকেলে উঠে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
দক্ষিণ খান থানার ওসি আরো জানান, গুলিবিদ্ধ ফায়েজকে পুলিশ প্রহরায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নেয়ার অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করা হবে।