জাতীয় চলচ্চিত্র ও একুশে পদক প্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন বাবা ও মায়ের কবরের পাশে। সোমবার বিকাল ৫টার দিকে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার নিজ গ্রাম সমষপুরের সামাজিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। মা সায়েস্তা খান ও বাবা মো. মোসলেউদ্দিনের কবরের পাশেই তিনি এখন চিরনিদ্রায়। এর আগে বাদ আছর তাঁর বাড়ির পাশের সমষপুর বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ মাঠে শেষ নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। সোমবার বিকাল তিনটার দিকে নিজ বাড়িতে পৌঁছায় তাঁর লাশ। গ্রামবাসীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
তার গ্রামের বাড়িতে চিত্র পরিচালক আমজাদ হোসেন, চিত্র নায়ক উজ্জ্বলসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, নায়ক-নায়িকাসহ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উপচেপড়া ঢল নেমেছিল।
মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র “ওরা এগার জন” নির্মাতার লাশবাহী গাড়িটি ছিল ফুল দিয়ে মোড়ানো। কিন্তু এটাই যে তাঁর প্রিয় ভূমিতে শেষ আসা এটি ভাবতেই চোখের জল ফেলেছেন স্বজনরা। এর আগে জীবিত অবস্থায় তিনি সর্বশেষ এসেছেন গত রমজানের আগে। প্রিয় এই বাড়িতে মাঝে মাঝেই আসতেন। কোন আনুষ্ঠান ছাড়াও তিনি সময় কাটাতেন এখানে। তবে অসুস্থতার কারণে অনেক দিন আসতে পারেননি তিনি। তবে আসলেন চিরদিনের জন্য। ঢাকার এফডিসিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁকে গার্ড অব অর্নার দেয়া হলেও এখানে কোন গার্ড অব অনার দেয়া হয়নি।
এদিকে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক সংবাদ জানিয়েছেন সাবেক হুইপ অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এমপি, সুকুমার রঞ্জন ঘোষ এমপি, অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস এমপি, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র অভিনেতা টেলিসামাদ, মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর জেলা বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি এম মিজানুর রহমান খান, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক মো. ইকবাল হোসেন, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল ও বিক্রমপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মাসুদ খানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নানা সংগঠন।
চাষী নজরুল মুক্তিযোদ্ধা নন!
মুক্তিযু্দ্ধ নিয়ে যাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণ। যে চলচ্চিত্র মুক্তিযুদ্ধের পর সারাদেশে প্রসংশিত হয়েছে। সেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র নির্মাতা নিজে মুক্তিযুদ্ধ করেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেলেন না তাঁর নিজ জেলায়। প্রয়াত এই চলচ্চিত্র নির্মাতাকে দেয়া হয়নি কোন গার্ড অব অনার।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো.সাইফুল হাসান বাদল জানান, চাষী নজরুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন কিনা-এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়, জেলা কমান্ডার ও উপজেলা কমান্ডারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে তাঁর নাম নেই। গেজেটে নাম না থাকলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে কাউকে গার্ড অব অনার দেয়া যায় না। উল্লেখ্য, সকালে চাষী নজরুল ইসলামকে এফডিসিতে রাষ্ট্রের পক্ষে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।