আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লিওনেল মেসি ও জার্মান গোলরক ম্যানুয়েল ন্যুয়ারকে পেছনে ফেলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্ষসেরা ফুটবলার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সোমবার সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফা সদর দফতরে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার।
এর আগে ২০১৪ ও ২০০৮ সালে ব্যালন ডি'অর পুরস্কার জিতেছিলেন রোনালদো।
বর্ষসেরা ফুটবলার রোনালদো ভোট পেয়েছেন মোট ৩৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লিওনেল মেসি পেয়েছেন ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ আর ম্যানুয়েল নুয়্যার ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট।
২০১৪ সালে অসাধারণ পারফর্মেন্সের মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন রোনালদো। এক মৌসুমে ১৭ গোলের রেকর্ড গড়ে রিয়াল মাদ্রিদকে ১০ম ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতিয়েছেন। এর সঙ্গে কোপা দেল রে’তে সান্তিয়াগো বার্নব্যু’র হয়ে ছয় ম্যাচে তিন গোল করেছেন। তবে ইনজুরির কারণে ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে আর মাঠে নামতে পারেননি। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত বছর শিরোপা জিতেছেন চারটি।
পুরস্কার মঞ্চে অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে রোনালদো বলেন, ‘আমি আমার মা ও পরিবারকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। এছাড়াও যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, আমার কোচ, আমার দলের খেলোয়াড়, কাবের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘পর্তুগিজকে আমি বলতে চাই, আমি কখনো ভাবিনি তিনটি ভিন্ন মৌসুমে আমি এই পুরস্কার জিততে পারব। তবে এটা ঠিক যে আমি সব সময় ভালো খেলোয়াড় হতে চেয়েছি এবং আশা করেছি এই পুরস্কারটি আমি জিতব। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
এবারের ব্যালন ডি'অর প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ব ফুটবলের আরো কিছু সম্মানজনক পুরস্কারও দেওয়া হয়। এর মধ্যে বছরের সেরা কোচ নির্বাচিত হয়েছেন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। তার অধীনেই ২০১৪ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ জয় করে।
বছরের সেরা গোলদাতা হিসেবে পুসকাস পুরস্কার জেতেন কলম্বিয়ার মিড ফিল্ডার জেমস রদ্রিগেজ। আর সেরা নারী ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন জার্মান মিডফিল্ডার নাদিন কেসলার।
অনুষ্ঠানে ফিফা বিশ্ব একাদশও ঘোষণা করা হয়। যার মধ্যে ডিফেন্ডার রয়েছেন- লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ফিলিপ লাম, ডেভিড লুইস, থিয়াগো সিলভা ও সার্জি রোমেস। মিডফিল্ডার রয়েছেন-অ্যান্ড্রেস ইনিয়েস্তা, টনি ক্রুস ও অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া। ফরোয়ার্ড- অ্যারিয়েন রবেন এবং গোলরক্ষক-ম্যানুয়েল ন্যুয়ার।