রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের পাড়া-মহল্লায় সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি করবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের চোরাগোপ্তা হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধে এ উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন এ জোট। এ লক্ষ্যে আগামী ১৫ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালের সঙ্গে বৈঠক করবেন ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা।
মঙ্গলবার দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে ১৪ দলের নেতারা শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন। সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে ১৪ দলের জনসভা করার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশে আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। এ ব্যাপারে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করাই হবে ১৪ দলের সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির প্রধান কাজ। এ কমিটি প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি উসকানি দিলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দেওয়া প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ১৪ দল কোনো গণতান্ত্রিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে না। সব শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি তারা করতে পারে। যদি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে চায়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেটা করার অনুমতির বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে। ভারতের বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ’র সঙ্গে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ফোনালাপ বিষয়ে তিনি বলেন, অমিতের সঙ্গে ফোনালাপ নিয়ে খালেদা জিয়া প্রতারণা করেছেন। একজনকে বিদেশি সাজিয়ে টেলিফোন নাটক করেছেন। এর মাধ্যমে জাতি লজ্জিত হয়েছে। আমি মনে করি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিরোধিতা করতে গিয়ে এই নাটকের কারণে বিএনপি তৃতীয় শ্রেণীর দলের কাতারে চলে গেছে।
এর আগে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিক কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ওয়াজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য একেএম এনামুল হক শামিম প্রমুখ।