২০১৭ সালেই উড়বে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

 
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ২০১৭ সালের ডিসেম্বরেই উেক্ষপণ করতে চায় সরকার। আর এ লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার অরবিটাল স্লট (১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) লিজ সংগ্রহের জন্য একটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব স্পেস কমিউনিকেশনের সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে বিটিআরসি সম্মেলন কক্ষে এ চুক্তি হয়। বিটিআরসির কমিশনার ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক এ টি এম মনিরুল আলম এবং ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনালের মহাপরিচালক ভাদাম ই বেলোভ নিজ-নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রাশিয়া-ভিত্তিক মহাকাশ যোগাযোগ বিষয়ক আন্তর্জাতিক এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে প্রথম কাজটি শেষ হলো। এখন শুরু হবে এর মূল কর্মযজ্ঞ। সব কাজ শেষে ২০১৭ সালের মধ্যে স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ কক্ষপথে পাঠানো সম্ভব হবে। স্যাটেলাইটটি উক্ষেপণ করতে খরচ হবে ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ১ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা। বাকি ১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা দেবে যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ পাবে তারা।
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি দুই কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে স্লট বরাদ্দ নেয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। সুনীল কান্তি বোস বলেন, স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে স্থাপন করা হলে আমাদের নিরবিচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। বিশ্বের সব উন্নত ও আধুনিক দেশের কৃত্রিম উপগ্রহ আছে। বাংলাদেশের স্যাটেলাইট স্থাপন হলে নিজেদের ভাড়া যেমন বাঁচবে তেমনি ভুটান, নেপালসহ কয়েকটি দেশের কাছে ভাড়া দেয়া যাবে। প্রস্তাবিত স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি থাকবে। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ নিজেরা ব্যবহারের জন্য রেখে দেবে। বাকি ২০টি বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হবে। 
সুনীল কান্তি বোস বলেন, বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সি ভাড়া নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেল, টেলিফোন, রেডিওসহ অন্যান্য যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এতে প্রতিবছর ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে কয়েক মিলিয়ন ডলার গুনতে হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চালু করতে পারলে দেশে শুধু বৈদেশিক মুদ্রারই সাশ্রয়ই হবে না, স্যাটেলাইটের অব্যবহূত অংশ নেপাল, ভুটান ও মিয়ানমারের মতো দেশে ভাড়া দিয়ে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ ডলার আয় করা যাবে। এ ছাড়া, দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে।
জানা গেছে, ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নে (আইটিইউ) বাংলাদেশের নিজস্ব অরবিটাল পজিশন ১০২ ডিগ্রি স্লট পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কারণ, এ স্লট দেয়ার কর্তৃপক্ষ হচ্ছে আইটিইউ। বাংলাদেশের স্যাটেলাইট ১০২ ডিগ্রিতে উেক্ষপণ করা হলে ফ্রিকোয়েন্সি পেতে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে আপত্তি জানায় যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, অষ্ট্রেলিয়াসহ এশিয়া মহাদেশ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। ১০২ ডিগ্রিতে স্যাটেলাইট উেক্ষপণের অনুমোদন না পেয়ে, বিকল্প প্রস্তাব দেয়া হয় ৬৯ ডিগ্রি পূর্বে। তবে এতে একই কারণ দেখিয়ে আপত্তি জানায় মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীন। আইটিইউ বাংলাদেশকে নিরক্ষ রেখার ১০২ ডিগ্রির পরিবর্তে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রিতে (পূর্ব) স্লট বরাদ্দ করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৬০টির মতো দেশের নিজস্ব উপগ্রহ রয়েছে। আর দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ভারত (১৯৭৫), পাকিস্তান (১৯৯০) ও শ্রীলঙ্কার (২০১২) নিজস্ব স্যাটেলাইট রয়েছে।