রাজধানীতে ৪৬ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৫

 
 
 
 
 
রাজধানীর বাড্ডা ও সায়েদাবাদ থেকে ইয়াবা বেচা-কেনার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ ও র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪৬ হাজার ইয়াবা জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ মেরুল বাড্ডা থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন পাভেল চৌধুরী, ফারহান আব্দুল্লাহ ওরফে ফালান, হূদয় সরকার আশিক ও বাহার। আরেক পৃথক অভিযানে সায়েদাবাদ থেকে ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবাসহ ফারুক নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১০।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, গত ২৮ আগস্ট ৫৪ হাজার ইয়াবার একটি বড় চালান আটক করে ডিবি পুলিশ। এ সময় জুবায়ের নামের এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। জুবায়েরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে বুধবার রাতে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও একটি প্রাইভেটকারসহ চার ইয়াবা ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানীতে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ৭-৮টি চক্র সক্রিয়। সব কটি চক্র চি‎িহ্ন‎ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে দুটি চক্রের কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতার করার ব্যাপারে আশাবাদী।
জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর বলেন, ‘যে গাড়িটি আটক করা হয়, সেটির চালক ছিলেন পাভেল। গাড়ির মালিক পাভেলের ভাই নোভেল। ওই গাড়ি দিয়ে কাকরাইলের একটি গ্যারেজে ইয়াবা রাখা হয়। পরে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
ডিবির সিনিয়র সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান জানান, বুধবার রাতে কয়েক ব্যক্তি একটি প্রাইভেটকারে সায়েদাবাদ থেকে বাড্ডায় আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন—ওই প্রাইভেটকারে ইয়াবা রয়েছে। বাড্ডার মেরুল মত্স্য আড়তের সামনে এলে তাদের বেরিকেড দেয়া হয়। পরে ওই গাড়িতে তল্লাশি করে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখা ৪০ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। প্রাইভেটকারটি জব্দসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হলেও সুমন নামের এক সহযোগী পালিয়ে যায়।

এ দিকে, বিকেলে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ইয়াবাসহ ফারুক নামের আরেক যুবককে গ্রেফতার করেন র্যাব-১০-এর সদস্যরা। বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-১০-এর মেজর তৌফিকুল বারী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সায়েদাবাদ থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার গায়ের জ্যাকেটের পকেট থেকে ৫ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। তিনি বলেন, ফারুক কক্সবাজার টেকনাফ থেকে ইয়াবাগুলো বহন করে ঢাকায় আসে।