অবরোধে নাশকতার কারণে ভেঙ্গে পড়ছে পরিবহন ব্যবস্থা। চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার খালাস এবং অন্যান্য পণ্য পরিবহনেও স্থবিরতা এসেছে। গত কয়েকদিনের অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্থানে যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও নাশকতার ঘটনায় পরিবহন খাতে বিপর্যয় এসেছে। নগরীর কদমতলী এলাকায় পরিবহন ঠিকাদার ও কমিশন এজেন্টের লোকজন জানান, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার কারণে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্রেলারসহ ছোট-বড় পণ্য পরিবহনের মালিকরা তাদের গাড়ি রাস্তায় নামাতে চাচ্ছেন না। তারা বলছেন, ভাড়ায় গেলে কয়েক হাজার টাকা পাই। কিন্তু দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা কিংবা আগুন দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের গাড়ি ধ্বংস করছে।
পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় স্থবিরতা দেখা দেয়ায় প্রাইভেট আইসিডিগুলোতেও পণ্যের স্তূপ জমেছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন ১২০টি কন্টেইনার রেলপথে ঢাকা আইসিডিতে যাওয়ার জন্য বন্দরের সাথে রেলের চুক্তি রয়েছে। রেলের সিডিউল বিপর্যয় এবং বিভিন্ন স্থানে নাশকতার কারণে রেল যোগে কন্টেইনার পরিবহনেও বেহাল দশা। বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় রেলপথে মাত্র ৫২টি কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে গেছে। এ সংখ্যাও গত এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন বলে জানা যায়। রেল ও সড়ক পথে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। রেলের সিডিউল ঠিক নেই। নিরাপত্তার কারণে রেলের পক্ষ থেকেই প্রতিটি গাড়ি স্বাভাবিক গতির চেয়ে কম গতিতে চালানো হচ্ছে। এতে করে কোন ট্রেনই নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। অবরোধে দুর্বৃত্তদের নাশকতার কারণে গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী বাস চলাচল অনেক কমে গেছে। যাত্রীবাহী বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজন জানান, কোটি টাকার বাস রাস্তায় ঝুঁকিতে ছাড়তে মালিকরা অপরাগতা দেখাচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নন এসি বাস চলাচল করলেও এসি বাস চলাচল এক প্রকার বন্ধ রয়েছে বলে জানানো হয়। আবার বাস কাউন্টার থেকে জানানো হয় বাস চলাচলের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে যাত্রীরা জীবনের আশঙ্কায় ভ্রমণ কমিয়ে দেয়ায় বাস ছাড়া যাচ্ছে না। এতে করে বাসের মালিক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একইভাবে চালক, হেলপারসহ সংশ্লিষ্টরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বিজিবি প্রহরায় জ্বালানি তেল ও ভোগ্যপণ্যবাহী লরি ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল করছে।