সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার টার্গেট

আন্দোলনের নামে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের চোরাগোপ্তা হামলার কারণে সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক করার টার্গেট নিয়েছে সরকার ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। যে কোন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্ত হাতে মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে প্রয়োজনে আরো কঠোর হতে ইতিমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার পর হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ১৪ দলীয় জোট শিগগিরই সারাদেশে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব কমিটি সারাদেশে সজাগ ও সতর্ক অবস্থানে থেকে সব ধরনের সন্ত্রাস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা দেবে।

বিএনপি-জামায়াতের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী আখ্যা দিয়ে তা শক্ত হাতে মোকাবেলার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কোনো ছাড় নয় বরং কঠোর অবস্থানে থেকে নাশকতা দমনের যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ জনগণের ক্ষতি করতে চাইলে তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক দেখতে চান প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ২/৩ দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ বৈঠক করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সারাদেশের গ্রাম-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় দু’একদিনের মধ্যে সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটি গঠন করবে ১৪ দল। ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের লোকজনকেও এই কমিটিতে রেখে চূড়ান্ত কমিটি করা হবে। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে দ্রুতই সারাদেশে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানোর ঘোষণা দেন।
সূত্র জানায়, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের নাশকতা মোকাবেলায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বুধবার থেকে কঠোর অবস্থানে গেছে। এর প্রেক্ষিতে বুধবারের চেয়ে সারাদেশে গতকাল বৃহস্পতিবারের পরিস্থিতি অনেক ভাল। শিগগিরই পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে। এ ব্যাপারে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এদিকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকার ও ১৪ দলের নেতাকর্মীরা বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বিএনপি জোটের আন্দোলনের নামে নাশকতা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপি জোটের শতাধিক নেতাকর্মীর ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। অপরদিকে ঢাকা মহানগরসহ সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চোরাগুপ্তা বোমা হামলা ও জঙ্গি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিপক্ষে ১৪ দলের উদ্যোগে গণসংযোগ, পথযাত্রা, শান্তি মিছিল এবং শান্তি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ঢাকা মহানগর ১৪ দলের নেতা এবং দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই এসব সমাবেশের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। এদিকে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের সব স্তরের নেতাকর্মীকে প্রস্তুতি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলের ৭৩টি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে হাইকমান্ড থেকে।

সরকার ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাশকতা মোকাবেলায় শিগগিরই অভিযান চলানো হবে রাজধানী ঢাকা ও জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত ১৭টি জেলাসহ বিগত দিনের আন্দোলনপ্রবণ জেলাগুলোতে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে যে কেউ নাশকতা, নৈরাজ্য সৃষ্টি ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাজপথে জ্বালাও-পোড়াওয়ের সঙ্গে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না।