কক্সবাজারের চকরিয়ায় শুক্রবার সকালে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়েসহ চার জন নিহত হয়েছে। মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রামে যাওয়ার পথে মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার বরইতলী মাদরাসা রাস্তার মাথা এলাকায় একটি পিকনিক পার্টির বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন, স্কুল শিক্ষিকা মা তাহেরা বেগম (৫২), মেয়ে ব্র্যাক ইউনির্ভাসিটির এমবিএ’র ছাত্রী তাসমিয়া ইসমাইল (২৪), মাইক্রোবাস চালক জয়নাল আবেদিন (৩৮) ও বাড়ির গৃহপরিচারিকা কোহিনুর আক্তার (১৮)।
তাসমিয়া বাদে বাকি তিন জনই ঘটনাস্থলে মারা যান। দুর্ঘটনার পর দুই ভাই-বোন আদনান মাহমুদ রাজীব (২৮) ও তাসমিয়া ইসমাইলকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসা দেয়ার আগেই মারা যায় তাসমিয়া। আহত রাজীবকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় গাড়ির অন্তত ১৫ যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের চকরিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত তাহেরা বেগম কক্সবাজার কেজি এন্ড মডেল হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা। তিনি কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকার ইসমাইল চৌধূরীর স্ত্রী। মাইক্রোবাস চালক জয়নাল উখিয়ার কোট বাজারের আলী আকবরের পুত্র। তাহেরা বেগমের বড় ভাই কক্সবাজার পৌরসভা বিএনপির সভাপতি একরামুল হুদা চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, তার বোন মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ছেলে মেয়েকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন।
উপজেলার চিরিঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনর্চাজ উপ-পরিদর্শক মো. ফয়েজুর রহমান বলেন, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে মহাসড়কের বরইতলী রাস্তার মাথা এলাকায় কক্সবাজারগামী একটি পিকনিক বাস ও চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি নোয়া-মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বাস চালক একটি গাড়িকে অতিক্রম করতে গেলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুঘর্টনা কবলিত বাস ও মাইক্রোবাসটি আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কক্সবাজার বর্ডার গার্ড অধিনায়ক কর্নেল মো.খালেকুজ্জামান, চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম, চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর, চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ওয়ালিদ মিল্টন ও ফাইতং ইউপি চেয়ারম্যান সামসুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।