ফের টার্গেট সীতাকুণ্ড রাত হলেই হামলা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুন্ড এলাকা আবার নাশকতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত তিনদিনে এখানে অন্তত ২০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত বছরের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পূর্ব ২/৩ মাস দেশের অন্যতম নাশকতার কেন্দ্রস্থল ছিল সীতাকুন্ড ও মীরসরাই এলাকা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাইফ লাইন খ্যাত ওই দুই এলাকায় নাশকতা রোধে ইতিমধ্যে বিজিবি’র পক্ষ থেকে ২৩টি ক্যাম্প স্থাপন করা  হয়েছে। কিন্তু এরপরও নাশকতা থেমে নেই।

জানা গেছে, রাত নামার সাথে সাথেই মহাসড়কের সীতাকুন্ড থেকে মীরসরাই অংশে যানবাহনে হামলার ঘটনা ঘটছে। প্রায় অর্ধশত কিলোমিটার ওই সড়কে আতংকের মধ্যে থাকেন যানবাহন চালকরা। কারণ সড়কের দু’পাশেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে জনবসতি। মহাসড়ক থেকে উভয় পাশে গ্রামগুলোতে অসংখ্য ছোট-ছোট সড়ক চলে গেছে। তাই কখন কোন সড়ক থেকে দুর্বৃত্তরা মহাসড়কে হায়ানার মত ভাংচুর ও জ্বালাও-পোড়াও এর কাজে নেমে পড়ে তা কেউ আঁচ করতে পারে না। হঠাত্ করে ১৫/২০ জন দুর্বৃত্ত আকস্মিক যানবাহনে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দ্রুত ওই সরু পথে আত্মগোপন করে।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার রাতেও সীতাকুন্ড ও মীরসরাই এলাকায় অন্তত ৫/৬টি পয়েন্টে পণ্য ও যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক, লরি, মাইক্রোবাস ও সিএনজি ট্যাক্সি আক্রমণের শিকার হয়েছে। তবে নির্বাচনপূর্ব সময়ে সড়কের যে সকল স্থানে অগ্নিসংযোগ এবং ভাংচুরের ঘটনা বেশি হয়েছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ওই সকল এলাকায় এবার তাদের টহল জোরদার করেছে। নাশকতার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের তালিকা নিয়েও মাঠে নেমেছেন তারা।
পুলিশ আরো জানায়, গত বছর সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে মহাসড়কে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট চালানো হয়েছিল। সে সময় মহাসড়কের চিহ্নিত ডাকাত দলও রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে যানবাহনে লুটপাট চালিয়েছিল। কিন্তু এবার চোরাগোপ্তা হামলা চালানো হচ্ছে বেশি। সীতাকুন্ড থানা পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার মহাসড়কে নাশকতা সৃষ্টিকারীদের সাথে পুলিশের গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে। ওসি ইফতেখার হাসান জানান, এ পর্যন্ত নাশকতার ৫টি মামলা এবং ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার সাথে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো জানান, গত ৩/৪ দিনে তার এলাকায় ৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তবে ভাংচুরের কোন পরিসংখ্যান তিনি দিতে পারেননি।
জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতা সৃষ্টিকারীদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি গত বৃহস্পতিবার রাতে ফকিরহাট এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনায় জড়িত হিসেবে স্থানীয় সলিমপুর ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যের নাম উল্লেখ করেন। মহাসড়কে নিরাপদে যানবাহন চলাচলে পুলিশের সাথে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির দক্ষিণ-পূর্ব রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হাবিবুল করিম।

এদিকে সীতাকুন্ড এলাকায় রাতের আঁধারে কয়েকটি নাশকতার ঘটনায় ইতিমধ্যে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল অনেক কমে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়াও কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে।