রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলায় গড়াই নদীর তীরে ‘যুদ্ধ’ দেখতে মানুষের ঢল নেমেছিল গত বৃহস্পতিবার। এ ‘যুদ্ধ’ আসল যুদ্ধ নয়। প্রকৃতপক্ষে এ ছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়া। মাতৃভূমি রক্ষায় দখলদার পক্ষকে ঘায়েল করতে সশস্ত্র বাহিনী যে ধরনের রণকৌশল অবলম্বন করে স্থল, জল ও আকাশ পথে আক্রমণ করে, তারই মহড়া প্রদর্শিত হয় গড়াই নদীর তীরে। এই অনুশীলনের নাম দেয়া হয় ‘দুর্জয় বাংলা’।
নদীর তীরে ওই মহড়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া মন্ত্রীপরিষদের সদস্যগণ, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইয়া, নৌ-বাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল মুহম্মদ ফরিদ হাবিব, বিমান বাহিনী প্রধান ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ ইনামুল বারী, স্থানীয় সংসদ সদস্যগণ, উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকগণ রণকৌশল প্রত্যক্ষ করেন।
গড়াই নদীর তীরবর্তী সোনাকান্দা, চর গোয়ালদহ, মৈষপুর, চৌগাছিয়া ও দরিয়াপুর গ্রামবাসীসহ হাজার হাজার লোক ওই মহড়া উপভোগ করেন। এসময় যুদ্ধকালীন সময়ের মতো গগণবিদারী গোলাবর্ষণে কেঁপে উঠে চারদিক। গ্রামবাসী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, তারা কখনো যুদ্ধ দেখেননি। তাদের কাছে এটাই প্রকৃত যুদ্ধ মনে হয়েছে।
সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের শীতকালীন এই প্রশিক্ষণ মহড়ায় একটি অনুশীলন যুদ্ধের সময় শত্রু পক্ষকে মোকাবেলা করে কিভাবে দেশকে শত্রুমুক্ত করা যায় সেই দৃশ্য প্রদর্শিত হয়। অনুশীলনে ‘লাল দেশ’ ও ‘নীল দেশ’ হিসাবে দুইটি দেশের মধ্য ‘যুদ্ধ’ হয়। যেখানে ‘নীল দেশ’ বাংলাদেশ ও ‘লাল দেশ’ শত্রু পক্ষ হিসাবে বিবেচিত হয়। এই ‘যুদ্ধে’ আকাশ পথে জঙ্গি ও ড্রোন বিমান, হেলিকপ্টার ও স্থল পথে সাঁজোয়া বাহিনী ট্যাংক নিয়ে অংশ নেয়। ‘কালার স্মোক’ শেল নিক্ষেপ করে শত্রুদের অবস্থান চিহ্নিত করে ‘নীল দেশে’র বৈমানিকরা গোলাবর্ষণ শুরু করে। ১৫/২০ জন কমান্ডার উভচর ট্যাংক নিয়ে নদী পাড়ি দিয়ে শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এছাড়া ২০/২২টি ‘অ্যাসল্ট বোটে’র মাধ্যমে ক্ষিপ্রতার সঙ্গে নদী অতিক্রম করতে থাকেন সেনাবাহিনী সদস্যরা। এসময় মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণে গড়াই নদী তীরের কয়েকটি গ্রাম ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। প্যারাসুটের মাধ্যমে হেলিকপ্টার থেকে শত্রুদের কাছাকাছি আকাশ থেকে ৮০ জন প্যারা কমান্ডার ভূমিতে অবতরণ করে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করেন। এই ত্রিমুখী হামলার মুখে শত্রুরা পরাজিত হয়।
‘যুদ্ধে’ শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করার খবরটি অ্যাসল্ট ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাকে ধন্যবাদ জানান। যুদ্ধ প্রস্তুতির আগে অনুশীলন সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান। অনুশীলনে ৮২ হাজার সেনা সদস্য, ২৬৫ জন প্যারা কমান্ডার ও ৫ জন বিমান বাহিনী সদস্য অংশগ্রহণ করেন।