ইত্তেফাক রিপোর্ট
২০১৬ সালের জুন মাসের মধ্যে সব ভোটারদের হাতে পর্যায়ক্রমে ৯০ মিলিয়ন উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্রের স্মার্টকার্ড তুলে দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে আগামী এপ্রিল মাস থেকে প্রতিমাসে ৬ মিলিয়ন স্মার্টকার্ড বিতরণ শুরু হবে। এর আগে আসন্ন ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম জানান—স্মার্টকার্ড কিভাবে বিতরণ করা হবে, তা শিগগিরই সভা করে নির্ধারণ করা হবে। আগামী ২৬ মার্চ জাতীয় পরিচয়পত্রের উন্নতমানের স্মার্টকার্ড প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৮ মাসে সব ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে শিগগিরই অনলাইনে ভোটার তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘স্মার্টকার্ডের উদ্দেশ্য হলো—সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবস্থা চালু করা, যা অধিকতর দক্ষ ও স্বচ্ছ সেবা প্রদানের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। অধিকতর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার জন্য আটটি ইন্টারন্যাশনাল সার্টিফিকেশন ও স্ট্যান্ডার্ড নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ১৪ জানুয়ারি ম্যানুয়াল পরিচয়পত্রের পরিবর্তে ডিজিটাল ফরম্যাটে ৯ কোটি স্মার্টকার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের জন্য ফরাসি কোম্পানি অবারথু টেকনোলজির সঙ্গে নির্বাচন কমিশন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। রবিবার দুপুরে চুক্তির বিষয়ে সবাইকে অবগত করার জন্য প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে ইসি সচিবালয়।
এ সময় ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভোটারদের আধুনিক মানের স্মার্টকার্ড দেয়ার আগে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধনের সুযোগ থাকবে। উপজেলা ও জেলা অফিসে নাগরিকরা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি পরিবর্তন ও তথ্য সংশোধনের সুযোগ পাবেন। সংশোধন প্রক্রিয়াটি অনলাইনে হওয়ায় বিড়ম্বনা এড়ানো যাবে। তবে অফলাইনে আবেদনেরও সুযোগ থাকছে। নতুন এ কার্ডটি জাল করা সম্ভব হবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে এখনো জাতীয় পরিচয়পত্রের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়নি।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সাহেলউদ্দিন বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি মাইক্রোচিপস সংবলিত স্মার্টকার্ড ভবিষ্যতে ই-পাসপোর্ট হিসেবে ব্যবহূত হবে। প্রস্তাবিত স্মার্টকার্ডে তিন স্তরে ২৫টির মতো নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘অনলাইনে ভোটার তথ্য সংশোধনের বিষয়ে কমিশন বৈঠক আহ্বান করেছে। বিষয়টি বৈঠকে উত্থাপন করা হবে। বৈঠকে পাস হলেও এ সপ্তাহেই ভোটারদের এ সুযোগ দেয়া হবে। ভোটাররা ছবিসহ ফরম পূরণের সময় যেসব তথ্য প্রদান করেছেন, সেগুলোও দেখতে পারবেন এবং সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে সরকারি সব অনলাইন সুবিধা, চাকরির জন্য আবেদন, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পাসপোর্ট তৈরি, ই-গভর্নেন্স ও ই-পাসপোর্ট সেবাসহ মোট ২৫টি সেবা প্রাথমিকভাবে পাওয়া যাবে। তবে এ সেবার পরিধি আরো বাড়তে পারে। প্রেস ব্রিফিং-এ অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত সচিব মুখলেসুর রহমান, জনসংযোগ পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান আরজু।
প্রথমবার ফ্রি, পরবর্তীতে লাগবে ফি:
ব্যয়বহুল হওয়ায় স্মার্টকার্ড কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের গুরুত্ব নাগরিকদের কাছে বাড়াতে এবার ‘ফি’ নির্ধারণ করেছে ইসি। পরিচয়পত্র হারানো, সংশোধন ও স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বর্তমানে কোনো ফি না লাগলেও স্মাটকার্ডের ক্ষেত্রে ‘ফি’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদি এ স্মার্টকার্ড প্রথমবার ফ্রি দেয়া হবে। দুই শ টাকা মূল্যে স্মার্ট কার্ডের জাতীয় পরিচয়পত্র হারালে টাকা ছাড়া মেলবে না। প্রথম বার হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে ২০০ টাকা, দ্বিতীয় বারের জন্য ৩০০ টাকা এবং পরবর্তী যেকোনো বারের জন্য ৫০০ টাকা নির্বাচন কমিশন সচিবের অনুকূলে জমা দিতে হবে। তবে জরুরি ভিত্তিতে পরিচয়পত্র পেতে হলে ৩০০ টাকা থেকে সর্বাচ্চ এক হাজার টাকা পর্যন্ত লাগবে। আর নবায়ন করতে হলে এক শ টাকা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন বিধিমালা-২০১৪-তে এ বিধান রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ইসি সেনাবাহিনীর সহায়তায় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু করে। সব ভোটারকে স্মাটকার্ড প্রদানের লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২১ জুলাই বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহান্সড অ্যাক্সেস টু সার্ভিস’ (আইডিয়া) প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি করে ইসি। দেশের সব নাগরিককে জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্টকার্ড) দেয়ার বিধান রেখে ২০১৩ সালের ৬ অক্টোবর জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন (সংশোধন) বিল সংসদে পাস হয়। এর ফলে ১৮ বছরের কম বয়সীরাও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে সারা দেশে ভোটার ৯ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার ৬৪১ জন। হালনাগাদে বেড়েছে আরো প্রায় ৪৭ লাখ ভোটার। পর্যায়ক্রমে সবাই পাবে এ স্মার্টকার্ড। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।