‘মোর বেটিক যাই মারছে, আল্লাহ যেন তাকও এইভাবে মারে। মোর বেটির কি দোষ আছিল, ওরা ক্যানে মোর বেটিক মারিল। মুই আজনীতি বোঝং না, আজনীতি করংনা, মুই বিচার চাং...।’ মেয়ের লাশ বাড়িতে পৌঁছার পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে এভাবেই আহাজারি করছিলেন নিহত জেসমিনের মা শেফালি বেগম।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের রিকশাচালক আব্দুল জব্বারের ছোট মেয়ে জেসমিন তবকপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিল। কিছুদিন আগে জব্বার ২ শতাংশের বসতভিটা বড় ভাই খালেকের কাছে বিক্রি করে বড় মেয়ে জবার বিয়ে দিয়ে সপরিবারে জীবিকার তাগিদে ঢাকা যান। সেখানে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন। প্রায় ১ বছর আগে জেসমিন বাবা-মার কাছ থেকে লেখাপড়ার উদ্দেশ্যে গ্রামের বাড়িতে জ্যাঠাদের কাছে ফিরে আসে। সদা হাসিমুখ জেসমিন বিদ্যালয়ে নাচ-গান করে সহপাঠিদের মাতিয়ে রাখতো। এজন্য শিক্ষক-সহপাঠি সবার কাছে প্রিয় হয়ে উঠে সে। বাবা-মায়ের সাথে দেখা করার জন্য ঐ দিন পাশের বিজয়রাম তবকপুর গ্রামের বাদাম বিক্রেতা রহিম বাদশা ও তার মা রহিমার সাথে ঢাকায় যাচ্ছিল। পথে মর্মান্তিক ওই ঘটনায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৩ জনেরই মৃত্যু ঘটে।