নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মাউলী ইউনিয়নের এক নিভৃত পল্লীর নাম চান্দেরচর। সেই গ্রামে বসবাস করেন ৮২ বছরের বৃদ্ধা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী সখিনা বেগম। পাঁচ সন্তানের জননী সখিনা ওই গ্রামের মৃত আহম্মদ বিশ্বাসের স্ত্রী। দুই ভ্যান চালক সন্তানের ঘরে খেয়ে না খেয়ে চলছে এই বৃদ্ধার জীবনের বাকি দিনগুলো। অথচ আজ পর্যন্ত জোটেনি একটি বয়স্ক ভাতার কার্ড।
নবগঙ্গা নদীর ভাঙ্গনে সর্বস্ব খুইয়েছেন বহু আগেই। ছোট ছেলে হাসমত বিশ্বাসের সংসারে তিনি বসবাস করেন। বয়সের ভারে এখন ঠিক মত চলতেও পারেন না। তার উপর রয়েছে বার্ধক্যজনিত নানা রোগবালাই। অভাব অনটনের সংসারে মায়ের চিকিৎসা ঠিক মতে করাতে পারছে না ভ্যানচালক পুত্ররা।
অসুস্থ শাশুড়ির চিকিৎসা সহায়তা আর বয়স্ক ভাতার একটি কার্ডের দাবিতে সখিনার ছোট পুত্রবধূ খাদিজা বেগম সম্প্রতি এসেছিলেন কালিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। তিনি খাদিজার শাশুড়ির প্রতিবন্ধী পরিচয় পত্রের ফটোকপির উপর একটি সুপারিশ লিখে দিয়ে পাঠিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। সেখানেই কথা হয় খাদিজার সঙ্গে।
পুত্রবধূ খদিজা অভিযোগ করে বলেন, ১৯৩৭ সালে জন্ম নেওয়া সখিনা বেগমের বয়স এখন ৮২ বছর। ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার কথা, তার শাশুড়ির কেন বয়স্ক ভাতা পাবেন না? এর জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের কাছে ধর্না দিয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে তিনি এসেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে।
এ ব্যাপারে মাউলী ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। ওই ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আখতার হোসেন বলেন, ঘটনাটি তিনি জেনেছেন। ওই বৃদ্ধাকে বয়স্ক ভাতা প্রদানের জন্য চেয়ারম্যানকে সুপারিশ করবেন।
আরো পড়ুন: ঝড়ো আবহাওয়া আরও কয়েকদিন থাকতে পারে
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি তিনি জানেন না। খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
ইত্তেফাক/অনি