সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের নিবন্ধন ফি নেয়ার সময় পুনঃনির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হজযাত্রীরা নির্ধারিত টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন। বাকি টাকা ১০ জুনের মধ্যে দিতে হবে। এতে ব্যালটি হজযাত্রীদের জন্য নিবন্ধনকালে ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা এবং নন-ব্যালটিদের জন্য ৪৮ হাজার ৩৩১ টাকা ৫০ পয়সা চলতি বছরের ৫ ফেবু্রয়ারির মধ্যে জমা দেয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্যাকেজের অবশিষ্ট অংশ ১০ জুনের মধ্যে জমা দিতে হবে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূঁ্ঞয়া সাংবাদিকদের বলেন, হজ কার্যক্রমের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সময় পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো) লিঃ এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারী ইমপোর্ট এ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের (সিএমসি) যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড (বিসিপিসিএল) গঠনের ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দিয়েছে।
এছাড়া ‘যুব সংগঠন (নিবন্ধন ও পরিচালনা) আইন-২০১৫’র প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এতে বলা হয়েছে, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবামূলক অরাজনৈতিক যুব সংগঠনকে সমাজ কল্যাণ অধিদফতরের পরিবর্তে যুব মন্ত্রণালয় থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। এ আইন নতুন সংগঠনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ আইনের আওতায় যুব মন্ত্রণালয় জাতীয় যুব কাউন্সিল গঠন এবং যুব সংগঠনের কর্মকান্ড তদারকির জন্য প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান প্রণয়ন করবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনেক অমর গানের রচয়িতা বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ গোবিন্দ হালদার স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাগরিক গোবিন্দ হালদার ১৭ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়া গত বছর মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে চতুর্থ ত্রৈমাসিক (অক্টোবর ডিসেম্বর) প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় ৷ ২০১৪ সালে মন্ত্রিসভা মোট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ২৪৫টি। এর মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ১৫২টি এবং বাস্তবায়নাধীন আছে ৯৩টি সিদ্ধান্ত। এই এক বছরে সবচাইতে বেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে চতুর্থ ত্রৈমাসিক অর্থাত্ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে। এ সময় মোট ১১টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যাতে ৯৪টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। যার মধ্যে ৬৭টি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়েছে, আর বাস্তবায়নের অপেক্ষায় আছে ২৭টি সিদ্ধান্ত।