খুনির মতোই তার বিচার হবে :প্রধানমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা আন্দোলনের নামে দেশের সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে মারে, যানবাহন পোড়ায় ও রেললাইনের ফিশপ্লেট তুলে নেয় তাদের ক্ষমা নেই। একজন খুনির যেভাবে বিচার হওয়া উচিত, সেভাবেই তার বিচার হবে ইনশাল্লাহ। এই বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবেই। এ জন্য আমি বাংলাদেশের জনগণের সহযোগিতা চাই। দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে যা যা করার, সেটিই করবো।’ বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলের চলমান অবরোধ-হরতালে দেশে সহিংসতাসহ উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

খালেদা জিয়ার দ্রুত নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এখন নির্বাচন চান। যখন সময় হবে তখনই নির্বাচন হবে। তাকে বলবো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিন। তিনি বলেন, পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনে না যাওয়া তার (খালেদা জিয়ার) ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তার সেই ভুলের মাশুল দেশের জনগণ কেন দেবে?
‘দুই নেত্রীকে একসঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত’- এই ধরনের আহ্বান জানানো বুদ্ধিজীবীসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাকে কেন তাদের সঙ্গে মেলাবেন? তারা কি আমার বাবা-মা-ভাইকে হত্যা করেনি? তারা কি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের এই সংসদে বসাননি? খুন করাই খালেদা জিয়ার কাজ। খুনিদের সঙ্গে কেন আমাকে মেলাবেন? উনি (খালেদা জিয়া) রাজনীতি করুন, নির্বাচন করুন, সেটি তার বিষয়। কিন্তু খুনিদের সঙ্গে আমাকে কেন এক পাল্লায় মাপতে চান? এটিই আমার দুঃখ।’ তিনি বলেন, ‘আমাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে গেছি। আমার ওপর আল্লাহর রহমত আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে ইনশাল্লাহ।’
আন্দোলনের নামে যারা মানুষ হত্যা করছে, দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে, পাড়া-মহল্লায় সন্ত্রাস বিরোধী কমিটি গঠন করে তাদেরকে ধরে পুলিশে দিতে প্রধানমন্ত্রী আবারও দলীয় নেতা-কর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নিজে মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। আর দোষ দিচ্ছেন সরকারের। তার এই মিথ্যাচার নতুন কিছু নয়। একুশে আগস্ট আমার ওপর গ্রেনেড হামলা করার পরেও বলেছিল-আমি নাকি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে গেছি। এবারের অবরোধে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল বোমা ও আগুনে হতাহতদের বেশকিছু ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘কারা এই হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে, ছবিই তো কথা বলে। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। ছবিসহ সেগুলো মিডিয়ায় এসেছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন হাতেনাতে ধরাও পড়েছে। তারা বলেছেন, টাকার বিনিময়ে তারা এসব করছে। এরপরেও বিএনপি নেত্রী কীভাবে মিথ্যাচার করেন যে, সরকার মানুষ পুড়িয়ে মারছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ের সামনে থেকে বাড়তি পুলিশ সরে যাওয়ার পরেও খালেদা জিয়া এখনও সেখানে অবস্থান করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজের বাড়ি ছেড়ে তিনি অফিসে বসে আছেন। এখন তো পুলিশ-অবরোধ নেই। এরপরেও তিনি ঘরে ফিরে যাবেন না। আসলে উনি যে সেখানে থাকবেন সেজন্য খাট আনাসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি তিনি আগে থেকেই নিয়ে রেখেছিলেন। আমার কাছে আরও তথ্য আছে, সবকিছু বলতে চাই না।