এই অবরোধ কাদের বিরুদ্ধে?

দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেছেন, সারাদেশে চলমান নাশকতা-সহিংসতা সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। কৃষক, শ্রমিক, মজুর, শিক্ষার্থী কেউই স্বাভাবিক মৃত্যুর অবস্থায় নেই। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত একটি স্বাধীন দেশে এ অবস্থা চলতে পারে না। আমাদের স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার দিন। তারা প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ১৬ দিন ধরে চলা এই অবরোধ কাদের বিরুদ্ধে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে দেয়ার এবং অবিলম্বে রাজনীতির নামে সহিংসতা বন্ধের আহবান জানিয়েছেন তারা।

গতকাল রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও’-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন কার্মসূচিতে বিশিষ্ট নাগরিকরা এই আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও’-এর কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সংবিধান আমাদের কতগুলো মৌলিক অধিকার দিয়েছে। প্রত্যেকের স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার আছে। নিজ নিজ পেশায় থাকার অধিকার আছে। কিন্তু আজকে সব অধিকার পদদলিত হচ্ছে। নারী, শিশু, সাধারণ মানুষ কেউই হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। অন্ধ মায়ের একমাত্র ছেলে আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। মানুষের রুটি-রুজি বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, আমরা এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই। দেশের অর্থনীতি পঙ্গু করে দেয়ার এই রাজনীতি চলতে পারে না। আমরা স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপনের জন্য ও শান্তিপূর্ণভাবে নিজের কাজ করার জন্য এখানে দাঁড়িয়েছি। এটাই প্রত্যেক নাগরিকের দাবি।
মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন ‘বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও’-এর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক আবেদ খান ও মনজুরুল আহসান বুলবুল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রানা দাশগুপ্ত, রাজনীতিবিদ অজয় রায়, নাট্যকার রামেন্দু মজুমদার, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, মানবাধিকার কর্মী শাহিন আনাম, ডা. জিয়া উদ্দিন তারেক আলী প্রমুখ। মানববন্ধন পরিচালনা করেন ডা. সারওয়ার আলী।
অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, কার বিরুদ্ধে এই অবরোধ? সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে? শ্রমিকের বিরুদ্ধে? কৃষকের বিরুদ্ধে? তিনি সর্বশক্তি দিয়ে হলেও সহিংসতা বন্ধ করার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকারের ক্ষমতা আছে সহিংসতা বন্ধ করার। তা করতে হবে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সরকার ও বিরোধী দলকে সহিংসতার দায় নিতে হবে। সাধারণ মানুষের রাজনীতি না করলে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে তাদের স্থান হবে।
অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, অপরাজনীতির মাধ্যমে দেশে সঙ্কটের রাজনীতি চলছে। এই মহূর্তে জনগণের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সরকার ও বিরোধী দলের।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত, ক্ষুব্ধ। আমরা সন্ত্রাস চাই না। স্বাভাবিকভাবে বাঁচা ও মরার অধিকার চাই। আপনারা মনে রাখবেন ভোট দেয়ার অধিকার আমাদের আছে।
আবেদ খান বলেন, সহিংসতা বন্ধ করার জন্য যা যা করা দরকার, সবকিছু সরকারকে করতে হবে। রাজনীতির নামে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশে জঙ্গিবাদ আসতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, সন্ত্রাসের চোরাবালিতে রাজনীতি হারিয়ে গেছে। এই অবরোধ কার্যত জনগণকে অবরুদ্ধ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডা. সারওয়ার আলী বলেন, অবরোধে এ পর্যন্ত ৩০-৩৫ জন মানুষ মারা গেছেন। মানুষের বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশ।

রামেন্দু মজুমদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বার্ন ইউনিটে স্বজনদের আহাজারি কী রাজনীতিবিদদের কানে যায় না।