গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ ও বিদ্যুতের হুইলিং চার্জ ১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে যথাক্রমে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। আর সবচেয়ে বেশি সেচ বিদ্যুতের দাম ৬৯ দশমিক ৩২ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
বুধবার রাজধানীর কাওয়ান বাজারস্থ টিসিবি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানীতে কোম্পানী দুটির পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
বিইআরসির চেয়ারম্যান এ আর খানের সভাপতিত্বে কমিশনের সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন, মো. মাকসুদুল হক ও রহমান মুরশেদ গণশুনানী গ্রহন করেন।
গণশুনানিতে ওজোপাডিকোর প্রস্তাবে বলা হয়, গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে শুধুমাত্র পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩শ’ কোটি টাকা লোকসান হবে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য পড়ছে ৭ দশমিক ৬৯৪৯ টাকা। আর বিক্রি করছে ৭ দশমিক ৬৯২৪ টাকা। ফলে প্রতি ইউনিটে লোকসান হয়েছে দশমিক ০০২৫ টাকা। এতে গত অর্থবছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান দিতে হয়েছে বলে জানান ওজোপাডিকো’র ডিজিএম (কর্মাশিয়াল) রবীন্দ্রনাথ দত্ত। তবে সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে সেচে। এ খাতের ব্যবহারকারীদের জন্য ৬৯ দশমিক ৩২ শতাংশ দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ইউনিটের দর রয়েছে ২ দশমিক ৫১ টাকা। আর তা বৃদ্ধি করে ৪ দশমিক ২৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গণশুনানিতে বিদ্যুতের হুইলিং চার্জ ১৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পিজিসিবি। ১৩২ কেভি লাইনে প্রতি ইউনিটের জন্য ৩৮ পয়সা (.৩৮৭৩) এবং ৩৩ কেভিতে প্রায় ৩৯ পয়সা (.৩৮৯৬) করার প্রস্তাব করেছে কোম্পানিটি। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দাম বাড়ানো না হলে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৮১৮ কোটি টাকা লোকসান হবে। তাহলে সরকার ও দাতা সংস্থার ঋণের টাকা সময়মতো পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
পিজিসিবি বর্তমানে ইউনিট প্রতি হুইলিং চার্জ যথাক্রমে দশমিক ২২৬৮ ও দশমিক ২২৯১ পয়সা হারে আদায় করছে। পিজিসিবি জানায়, তাদের মোট আয়ের ১৫ শতাংশ কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় হয়।
এ প্রসঙ্গে বিইআরসি’র চেয়ারম্যান এআর খান বলেন, এ খাতে এতো ব্যয় গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যয় কমাতে হবে। ভবিষ্যতে কোন প্রকল্প গ্রহণের আগে বিইআরসি’র মতামত নেওয়ার নির্দেশনা দেন বিইআরসি’র চেয়ারম্যান।
উল্লেখ্য, বিদ্যুতের দাম পুননির্ধারণের জন্য গত ২০ জানুয়ারী থেকে গণশুনানী শুরু হয়েছে। গণশুনানী চলবে ২৫ জানুয়ারী পর্যন্ত । বিদ্যুত্ উত্পাদন, সঞ্চালন, বিতরণ সকল পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম পুননির্ধারণ হবে।