আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে অচিরেই সারাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার গ্রেফতার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠবে। আর জনগণ দাবি তুললে খালেদা জিয়ার গ্রেফতার কেউ ঠেকাতে পারবে না। তাই ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য পরিহার করে অবিলম্বে গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসার জন্য তিনি বিএনপি নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল বুধবার বিকালে মিরপুরস্থ ১০ নম্বর গোলচত্ব্বরে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শান্তি শোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের দেশ বিরোধী চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চোরাগুপ্তা বোমা হামলা, জঙ্গি নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে এই শান্তি শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অবরোধ ডেকে খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ে শুয়ে আছেন, আর তার দলের নেতাকর্মীরা গর্তের মধ্যে চলে গেছে। দেশের কোথাও এখন বাটি চালান দিয়েও বিএনপির নেতাকর্মীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষ আন্দোলন করে জনগণকে সাথে নিয়ে। আর খালেদা জিয়া আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সন্ত্রাসীদের নিয়ে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। কয়েকদিনের মধ্যে খালেদা জিয়া চূড়ান্তভাবে পরাজিত হবেন। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশকে সকল ক্ষেত্রে সাফল্য এনে দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করছেন, তখন খালেদা জিয়া পরিকল্পিত ভাবে অশান্তি সৃষ্টি ও বোমাবাজি করে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালের একদিন আগে এদেশে কোন সংসদ নির্বাচন হবে না। ২০১৯ সালে সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে। বিএনপিকে এ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে খালেদা জিয়া ভুল করেছেন। তার ভুলের খেসারত জনগণ কেন দিবে? তিনি বলেন, যারা আমার মা, ভাই, বোনদের বোমা মেরে হত্যা করছে, তাদের সাথে কোন ধরনের সংলাপ হতে পারে না। যাদের হাতে রক্তের দাগ তাদের সাথে কিসের সংলাপ হবে? খুনিদের সাথে কোন সংলাপ হতে পারে না।
বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতি প্রতিরোধের জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জঙ্গি লালনকারী সন্ত্রাসী বাহিনীর সাথে কোন আলোচনা বা সংলাপের সুযোগ নেই। তারা ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি ব্যর্থ হয়েছিল, এবারও ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কৌশলের কাছে আপনি বারবার পরাজিত হবেন।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, দেশ যখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে তখন সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। আর এই ষড়যন্ত্রের প্রবেশ দ্বার হল খালেদা জিয়া।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, একটি মিথ্যাবাদী মহিলা মানুষ মারা শুরু করেছে। তাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না তা জানতেই তো আপনারা এখানে এসেছেন, তাই না ভাইয়েরা। অপেক্ষা করেন সময় এসে গেছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের যুগ্ম আহবায়ক অসিত বরণ রায়, জাসদের খালেক হোসেন, গণআজাদী লীগের এস কে শিকদার, ন্যাপের ইসমাঈল হোসেন, যুবলীগ মহানগর উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল প্রমুখ।
‘খালেদা অসময়ে যুদ্ধ ডেকেছেন’
এদিকে গতকাল বিকালে মানিকগঞ্জের গোবিন্দপুরে একটি কমিউনিটি কিনিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিএনপির চলমান অবরোধ কর্মসূচিকে ‘ভুয়া অবরোধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা ও দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া অসময়ে যুদ্ধ ডেকেছেন। তবে এই যুদ্ধের সেনাপতি খালেদা জিয়া ছাড়া তার সব সৈন্য (দলীয় নেতাকর্মী) পালিয়ে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে দেশে সামরিক শাসন আসত। দেশে কোন গণতন্ত্র থাকতো না। নির্বাচন হয়েছে তাই দেশে উন্নয়ন হচ্ছে। খালেদা জিয়ার উদ্দেশে তিনি বলেন, যতই হুমকি দেন কোথাও অবরোধ হচ্ছে না। যানবাহন চলছে, মানুষের জীবনযাত্রাও স্বাভাবিক রয়েছে। তাই এই ভুয়া অবরোধ তুলে নেন। বোমা মারার রাজনীতির দিন শেষ হয়ে গেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানিকগঞ্জ সহ আরো ৫টি জেলায় তুরস্কের অর্থায়নে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ হবে। আমরা চাই মা ও শিশুদের চিকিত্সাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে। আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বার্ন ইউনিটে যারা মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এবং ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে এদের দায়-দায়িত্ব খালেদা জিয়াকে নিতে হবে। কারণ তার নির্দেশে এসব ঘটনা ঘটেছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাখদুমা নার্গিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত হুসয়েনি মুফতু ওগলু, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, রাশিদা ফেরদৌস, পুলিশ সুপার বিধান ত্রিপুরা, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম মহিউদ্দিন, সিভিল সার্জন মানিকগঞ্জ ডাঃ মোঃ শাহ আলম প্রমুখ।