রাজশাহীর গ্রেটাররোডের দড়িখরবোনা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ পাহারায় পণ্যবোঝাই ট্রাকের বহরে পেট্রোল বোমা ও হাত বোমার হামলা চালিয়েছে মুখোশধারী অবরোধ সমর্থকরা। মুহুর্মুহু হাতবোমার ধোঁয়ায় গোটা এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বোমার স্প্লিন্টারে গ্রেটাররোডে অবস্থিত উত্তরণ প্রেসের সার্টারগেট ফুটো হয়েছে এবং শোরুমের কাচ ভেঙে গেছে। এছাড়া বোমার স্প্লিন্টারে প্রেস কর্মচারী কাজিম (২৫), তার বড় ভাই মাসিম (৪০) এবং পথচারী উপশহর এলাকার আবদুর রশিদ (৩৮) গুরুতর আহত হন। তাদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুপুর পৌণে একটার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক আসছিল। এসময় গরীর বর্ণালীর মোড় থেকে দড়িখরবোনার মোড় পর্যন্ত গ্রেটার রোডে অবরোধ সমর্থকরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তারা মুখোশ পরে ট্রাকের বহুরে পেট্রোল বোমা ও হাতবোমা নিক্ষেপ ছাড়াও দড়িখরবোনার মোড়ে দরিদ্র মানুষের দুইটি চায়ের দোকান ভাংচুর করে এবং আশা নামের একটি সেলুনের চেয়ার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ট্রাকের বহরের সামনে থাকা বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ পাহারায় ট্র্রাকের বহর ওই এলাকা ত্যাগ করে।
নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাহমুদুর রহমান জানান, অতর্কিত হামলার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এ ঘটনায় র্যাব বা বিজিবির কোনো সদস্য বা ট্রাকের বহরের কেউ আহত হননি। হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে সনাক্ত ও আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের আটকে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে।
এদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবম সমাবর্তন উপলক্ষে তৈরিকৃত গেটে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়ামের প্রধান ফটকের সামনে কে বা কারা ওই গেটে আগুন ধরিয়ে দেয়।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, রাবির নবম সমাবর্তন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটি কৃত্রিম গেট তৈরি করেছিলো। সমাবর্তন শেষে ওই গেটটি স্টেডিয়ামের পাশেই রেখে দেয়া হয়েছিল। কে বা কারা ওই গেটটিতে গভীর রাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে এ ঘটনায় কে বা কারা জড়িত তা এখনও জানা যায় নি।