বগুড়ার নুনগোলায় ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলায় দগ্ধ ট্রাক চালকের সহকারী আব্দুর রহিম মারা গেছেন। শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল।
নিহত আব্দুর রহিম সাতক্ষীরা সদরের শ্রীরামপুর এলাকার সুজনের ছেলে। এদিকে নুনগোলায় ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে ৩ জনকে দগ্ধ ও ট্রাকে আগুন দেয়ার ঘটনার মামলায় নুনগোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মুরাদুজ্জামান , ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি মাসুদ রানা এবং ইউনয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে বগুড়া সদর থানা পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বগুড়া সদরের নুনগোলা এলাকায় ফার্ণিচার মালামাল তোলার সময় একটি ট্রাকে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে দৃর্বৃত্তরা। বোমা বিস্ফোরিত হয়ে ট্রাকে আগুন ধরে যায় এবং মারাত্মক দগ্ধ হন ট্রাক চালক পিরোজপুর জেলার কাউখালি উপজেলার হোগলদেবতা গ্রামের তবিরুল ইসলামের ছেলে টিটোন (৪০), চালকের সহকারী আব্দুর রহিম (২৫) এবং বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা এলাকার ফার্ণিচার ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নানের ছেলে সাজু হোসেন (৩০)।
দগ্ধদের দ্রুত বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আবদুর রহিম এবং ফার্নিচার ব্যবসায়ী সাজুর অবস্থা সংকটাপন্ন
হলে রাতেই তাদের ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সকাল
সোয়া ১০টার দিকে রহিম মারা যান।
বগুড়া জেলা পুলিশের জৈষ্ঠ্য সহকারী পুলিশ সুপার (সিনিয়র এএসপি) গাজীউর রহমান, ফার্ণিচার ভর্তি ট্রাকটি নড়াইলে যাচ্ছিল। পথে অবরোধকারীদের হামলার শিকার হয়। এতে চালক হেলপার ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী অগ্নিদগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী সাজু ও হেলপার রহিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা প্রেরণ করা হয়। ঢাকায় নেয়ার পর হেলপার রহিম মারা যান। ওই ঘটনায় মামলা দায়ের হলে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত ৩ জনকে গ্রেফতার করে।