‘বাংলাদেশ-ভারত উন্নয়ন অংশীদারিত্ব জোরদার করতে হবে’

ভারতের ৬৬তম প্রজাতন্ত্র দিবসের সেমিনারে আলোচকরা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত অনেকক্ষেত্রেই সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির একই উত্তরাধিকার বহন করে। বিভিন্ন সময় এ দুই দেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিদেশি শক্তির শাসিত ছিল। কিন্তু শক্তিশালী  সংস্কৃতির উত্তরাধিকার আমাদের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র করেছে। বিশ্বে আন্তরাষ্ট্রীয় সম্পর্কে নানা মাত্রা ও দিক যুক্ত হয়েছে। এক দেশ আরেক দেশের উন্নয়নে অংশীদারিত্ব বজায় বা সহযোগিতা না করলে সম্পর্ক কার্যকর হয় না। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এখনও দীর্ঘদিনের অনেকগুলো অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে। বাস্তবতা বিবেচনায় এগুলোকে দ্রুত মীমাংসা করতে হবে। ভারতের উন্নয়নে বাংলাদেশকে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারতকে সহযোগিতা দিতে হবে। উন্নয়ন অংশীদারিত্বে দূরত্ব তৈরি হলে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হবে।
শুক্রবার বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউসন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘ভারতের ৬৬তম প্রজাতন্ত্র দিবস এবং সমসাময়িক দক্ষিণ এশিয়া’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা এ কথা বলেন। বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক, উদার এবং গণতান্ত্রিক একটি রাষ্ট্র। বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বের বড় শক্তি আমাদের বৈচিত্র্য এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ। বাংলাদেশ ও ভারত শুধু দুইটি প্রতিবেশী বা বন্ধুসুলভ রাষ্ট্রই নয়, উন্নয়নের অংশীদারও। পৃথক বিষয়ে আমাদের পৃথক অগ্রগতি ও দক্ষতা রয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষায় এবং নিরাপত্তা ও উন্নয়ন ইস্যুতে অংশীদারিত্ব আমাদেরকে এগিয়ে নিবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার পঙ্কজ শরন বলেন, ভারতের বর্তমান সরকার উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যানমুখী কর্মকান্ডকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির ভারতকে ২০ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দেশে পরিণত করার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। দুই দেশের সরকারই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটানের মধ্যে আন্ত:দেশীয় যোগাযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারত সরকারের আন্তরিকতার অংশ হিসেবেই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ দিনের অমীমাংসিত বিষয়ে মীমাংসা করতে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুততর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের সমাজ ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে একসাথে কাজ করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান বলেন, শুধু রাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে বন্ধুত্ব-অংশীদারিত্বের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করলে হবে না। প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে বাস্তবতা অনুধাবন এবং জনগনের প্রত্যাশা মেনে অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিতে হবে। কোন পক্ষের কোনটি বেশী দরকার তা কেন্দ্র করে ইস্যুগুলো অমীমাংসিত রাখা যাবে না। বাংলাদেশ-ভারত ট্রানজিট বা এশিয়ান হাইওয়ের সড়ক-অবকাঠামো নির্মানে ভারতকেই বেশী অর্থ খরচ করতে হবে, কেননা বাংলাদেশের তত অর্থ নেই। সন্ত্রাসবাদ বা ভারতের জন্য হুমকি এমন বিষয়ে ভারত সরকারকে বাংলাদেশ সহায়তা দিচ্ছে। তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশকে বুঝিয়ে দিতে ভারতকেও আর দেরী করা উচিত নয়।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সঞ্জয় কে ভর্দা’জ। সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, ব্যারিস্টার তানিয়া আমির।