হরতাল-অবরোধের আগুনে পুড়ে ছাই হতে চলেছে ফুলচাষিদের স্বপ্ন। লাভের আশায় মাঠের পর মাঠ ফুল ফুটিয়েছিলেন তারা। কিন্তু মাঠে ফুটে মাঠেই ঝরে পড়ছে ফুল। ফুলের রাজধানীখ্যাত যশোরের গদখালীতে চাষিদের মধ্যে তাই হাহাকার পড়ে গেছে। টানা হরতাল আর অবরোধে আয়ের উত্স বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে তাদের। লাভজনক হওয়ায় গদখালীর চাষিরা জমিতে ফসলের পরিবর্তে ফুলের আবাদ করে থাকেন। বছর জুড়ে তারা নানা ধরনের ফুল উত্পাদন করেন। শুধু গদখালীতেই বছরে ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে ফুলের আবাদ করেন চাষিরা। ফুল বিক্রির টাকায় চলে তাদের জীবন। যশোরের গদখালী এলাকার ফুলচাষিরা জানান, ইংরেজি নববর্ষের আগের দিন জামায়াতের হরতালের কারণে ফুলচাষিদের আশার গুড়ে বালি পড়ে। ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে এ অঞ্চলের কৃষকদের দুই কোটি টাকার ফুল বিক্রির টার্গেট ছিল। কিন্তু হরতালের কারণে বিক্রি অর্ধেকে নেমে যায়। এরপর ৫ জানুয়ারি থেকে চলছে টানা অবরোধ আর হরতাল। অবরোধে আরও দুই কোটি টাকার লোকসানের শিকার হয়েছেন ফুলচাষিরা। তবে গত বৃহস্পতিবার হঠাত্ গদখালীর পাইকারি বাজার ঘুরে দাঁড়ায়। টানা তিন সপ্তাহ দরপতনের পর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায় ঐদিনের বাজারে।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি ও গদখালী ফুল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, ‘দেশের বিভিন্ন স্কুলে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেয়া হচ্ছে। এই অনুষ্ঠানের জন্য ফুলের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে বলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি নিয়ে এখানে আসছেন। তবে ফুল পরিবহনে ট্রেনে তুলতে অনীহা এবং বাড়তি টাকা দাবিসহ নানা হয়রানির বিষয়টি বৃহস্পতিবার যশোরের জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। তিনি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।’ তবে যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবির হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘ফুল পরিবহনের সুবিধার জন্য ট্রেনের যাত্রাবিরতি কিছুটা দীর্ঘায়িত করার দাবি করেছেন ফুল ব্যবসায়ীরা। আমি যশোর-বেনাপোলের কমিউটার ও আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির সময় বাড়ানোর কথা স্টেশন ম্যানেজারকে বলে দিয়েছি।’