আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

নোম্যান্সল্যান্ডে দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা

‘আমার প্রতিরোধ আমার সংগ্রাম আমার স্বাধীনতা, আমার অধিকার আমার ৫২ আমার বর্ণমালা’—এমন শ্লোগানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করতে দুই বাংলার হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী মানুষের মিলনমেলা বসে বেনাপোল সীমান্তের ভারত-বাংলাদেশ নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায়। দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন আর জাতীয় পতাকা উড়িয়ে হাজার হাজার ভাষাপ্রেমী নারী-পুরুষ ও শিশুরা দিবসটি উদযাপন করে যৌথভাবে। উভয় দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয় এ অনুষ্ঠানে। নানা রঙয়ের ফেস্টুন, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড আর ফুল দিয়ে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় নোম্যান্সল্যান্ড এলাকা। দুই দেশের শিল্পীরা দিনভর মেতে ওঠে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়।

বিজিবি ও বিএসএফ-এর কড়া নিরাপত্তার বেস্টনি পেরিয়ে ভাষার টানে বাঙালির বাঁধনহারা আবেগের কাছে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায় দুই বাংলার মানুষ। দুই দেশের সীমান্তরেখা ভুলে গিয়ে ভাষাপ্রেমীরা ছুটে এসে একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়ে। ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে মিষ্টি বিতরণ করে উভয়কে বরণ করে নেওয়া হয় একুশের এই মিলনমেলায়। বিজিবি ও বিএসএফ-এর সদস্যরা ভাষাপ্রেমীদের বাঁধভাঙা আবেগের কাছে হার মেনে তারাও নির্বাক হয়ে দেখতে থাকে মিলনমেলার দৃশ্য। দুই দেশের সীমান্তরক্ষীরা ছিল আবেগপ্রবণ, তাদের অপুলক দৃষ্টিতে ছিল ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ। মিলনমেলায় ভাষাপ্রেমীদের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বিজিবি ও বিএসএফ।

সকাল ১১টায় জিরো পয়েন্টে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে প্রথমে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, যশোর ১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহমন্ত্রী জ্যোতি প্রিয় মল্লিক, বনগাঁ পৌর মেয়র শংকর আরডো, শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান ও বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব এনামুল হক মুকুল। নোম্যান্সল্যান্ডের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় একুশের কবিতা আবৃত্তি, ছড়া, নাটক, আলোচনা আর সঙ্গীতানুষ্ঠান। একুশের গানসহ বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করেন ভারতের সারেগামার বাংলাদেশের শিল্পী মাঈনুল আহসান নোবেলসহ ভারত-বাংলাদেশের শিল্পীরা। ভাষা শহীদদের স্মরণে দুই দেশের মানুষের সম্প্রীতি আর ভালোবাসার বাঁধনকে আরো সুদৃঢ় করার প্রত্যয় নিয়ে শেষ হয় মিলনমেলা। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় স্থায়ী শহীদ বেদি নির্মাণ করা হলে দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মধ্যে সৌহার্দ্য সম্প্রীতি আরো সুদৃঢ় হবে এমনটি আশা করছেন দুই বাংলার ভাষাপ্রেমীরা।

যশোর ১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শেখ আফিল উদ্দিন বলেন, ‘দুই দেশ ভাগ হলেও আমাদের বাংলা ভাষাকে ভাগ করতে পারেনি। ভাষার টানে এদিনে আমরা দুই বাংলার মানুষ বেনাপোল সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে একত্রিত হয়। মিলনমেলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে।’

মিলনমেলার ২১ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক শার্শা উপজেলার আওয়ামীলীগের সভাপতি ও শার্শা উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মনজু বলেন, ‘ভাষার টানে আমাদের এ মিলনমেলা প্রতিবছর দুই বাংলার নতুন প্রজন্মকে নিয়ে পালিত হবে।’