শুক্রবার রাত ১২টায় নগরীর অদূরে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের কাপাশিয়ায় আবারো নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ পাহারার গাড়িবহরে পেট্রোলবোমা হামলা চালিয়েছে ছাত্রশিবির। এতে একটি বাস এবং দুইটি ট্রাক পুড়ে গেছে। একই রাতে মহাসড়কের একই স্থানে শিবিরকর্মীরা কলা গাছ ফেলে অবরোধ করায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পার্শ্বের খাদে উল্টে পড়ে অন্তত: ২৫ যাত্রী আহত হয়েছে।
এদিকে তানোর ও পবায় দুইবাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উভয় থানায় পৃথক মামলা হয়েছে। এতে বিএনপি-জামায়াতের ৬২ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। উভয় মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এদের মধ্যে হাতেনাতে আটকের পর জনতার গণপিটুনিতে আহত দুই শিবিরকর্মীকে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নাশকতায় জড়িত সন্দেহে আটক তিন বিএনপি-জামায়াত কর্মীসহ ১০ জনকে কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটকের পর শুক্রবার রাতে নগরীর রাজপাড়া থানায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ শামসুল আরেফিনের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোস্তাফিজুর রহমান মিম (২০), আবদুল গফুর (৪৫) ও আরব আলীকে (৪৮) দুই মাস করে এবং বাচ্চু (২০), রাজ্জাক (২৫), মোস্তাকিন (৪৭), মাসুদ করিম (৩২), হায়দার আলী (২০), শরীফুল ইসলাম (৩০) ও মন্টু শেখকে (৩০) এক মাস করে বিনাশ্রম কারাদÐ দেয়া হয়। শনিবার সকালে সকলকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মতিহার থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, শুক্রবার রাত ১২টায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ পাহারায় ৩৫/৪০টি গাড়ির বহর ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। বহরটি কাপাশিয়ায় পৌঁছালে শিবির নেতাকর্মীরা পেছনের দুটি ট্রাক ও একটি বাসে পেট্রোলবোমা হামলা চালায়। এতে বাস ও ট্রাক দুইটিতে আগুন ধরে যায়। কেউ দগ্ধ না হলেও দ্রুত নামতে গিয়ে কয়েক যাত্রী আহত হন। দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও যানবাহন তিনটি পুড়ে যায়। একই রাতে ‘এমপি সাফারি’ বাস ঢাকায় যাবার সময় তিনটার দিকে কাপাশিয়ায় শিবিরের কলাগাছের ব্যারিকেডের মধ্যে পড়ে। এসময় বাসটি দ্রুত পার হতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের অন্তত: ২৫ যাত্রী আহত হন। পরে সদর দমকল বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ১০ জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি গভীর রাতে রাজশাহীর ভদ্রায় শিশির পরিবহণের একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলায় এক নারী দগ্ধ হন। দুইদিন পর গত ২২ জানুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার নগরীর গ্রেটার রোডের বর্ণালীর মোড় থেকে দড়িখরবনা পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা এবং নগরীর বিনোদপুরে গাড়িবহরে তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবিরকর্মীরা। তাদের পেট্রলবোমা ও ইটপাটকেলের আঘাতে ১৫টি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে প্রেস কর্মচারী দুই সহোদর ও এক পান দোকানদার বোমার স্প্রিন্টারে আহত হন। এছাড়া শুক্রবার সন্ধ্যায় তানোর ও পবায় পৃথক দুইটি বাসে পেট্রলবোমা হামলায় ১০ যাত্রীসহ দগ্ধ হয়।