পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে (পিসিবি) গত বছর কয়েক ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দারুণ টানাপড়েন চলছিল। সম্প্রতি পিসিবির সভাপতি পদে শাহরিয়ার খানের ফিরে আসা ও তার বাংলাদেশ সফরের ভেতর দিয়ে দুই দলের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছিল। সেই উষ্ণ সম্পর্কের অংশ হিসাবেই পূর্ণাঙ্গ সফরে এ বছর বাংলাদেশে আসার কথা পাকিস্তানের। কিন্তু এই অবস্থায় হঠাত্ করেই পিসিবির তরফ থেকে সফরের আগে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবর। পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরের আয়ের ৫০ শতাংশ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলের পাল্টা সফর শর্ত হিসাবে দাবি করেছে পিসিবি।
পিসিবির এসব ‘শর্ত’কে অবশ্য শর্ত হিসাবে দেখতে রাজী নন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাঈমুর রহমান দুর্জয়। তিনি বলছেন, এগুলো প্রস্তাবনা মাত্র। আর এসব প্রস্তাবনা নিয়ে দুবাইতে চলমান সফরে বিসিবি সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী পিসিবি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানালেন দুর্জয়। তিনি আশাবাদী যে, আলোচনায় সবকিছুর সমাধান হবে এবং যথাসময়ে পাকিস্তান সফরে আসবে। তবে খুবই প্রণিধানযোগ্যভাবে তিনি বললেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সফর ব্যাপারটাই হল, পারস্পরিক সমঝোতা ও বোঝাপড়ার ব্যাপার। এখানে শর্ত দিয়ে কিছু হয় না।’
বাংলাদেশের কথিত পাকিস্তান সফরের প্রতিশ্রুতিভঙ্গ নিয়ে এর আগে অনেক জল ঘোলা হয়েছে। এমন প্রতিশ্রুতি পেয়ে আইসিসির সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি আ হ ম মোস্তফা কামালকে পিসিবি সমর্থন দিয়েছিল বলেও তারা দাবি করেছিল। সেই ‘প্রতিশ্রুতি’ দুই দফা বাংলাদেশ রাখতে পারেনি; এর মধ্যে একবার উচ্চ আদালতের নির্দেশে সফর বাতিল হয়। এসব কারণে পাকিস্তান দ্বিতীয় বিপিএল ও ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তাদের খেলোয়াড় না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। জাকা আশরাফের সময়ে চরমে ওঠা এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বশেষ ঢাকা সফর করেন নতুন করে দায়িত্ব পাওয়া পিসিবি প্রধান শাহরিয়ার খান। আর এই সময়েই শুরু হওয়া আলোচনা থেকে ‘ভবিষ্যত্ সফরসূচি’তে (এফটিপি) সংযুক্ত হয় যে, পাকিস্তান এপ্রিল মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ সফরে ঢাকায় আসবে।
১০ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত এই সফরে পাকিস্তান দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলার কথা। সে জন্য বিসিবি সূচিও একধরনের চূড়ান্ত করে ফেলেছিল। ঠিক এই সময়ে দুবাইতে আইসিসির বার্ষিক সভার পাশাপাশি বিসিবি প্রতিনিধিদের পিসিবি এক অভিনব শর্ত দেয়।
পিসিবি দাবি করে যে, এই সফরের থেকে বিসিবির মোট আয়ের অর্ধেকটাই তাদের দিয়ে দিতে হবে! শুধু তাই নয়, এই সফরের বিনিময়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলের একটি করে সফরও চূড়ান্ত করতে হবে। এই দুই শর্ত বিসিবি মানবে, এমন কোনো সম্ভাবনা এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না।
বিসিবির পরিচালক, সাবেক অধিনায়ক দুর্জয় অবশ্য বললেন, ‘বোর্ড সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী এখন দুবাইতে আছেন। আমি যতদূর জানি, একটা প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সেটা ঠিক কী রকম তা আমরা এখনও জানি না। এই প্রস্তাবনা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। তারপরই আসলে বলা যাবে, ঠিক কী হচ্ছে। তবে আমরা আশাবাদী যে পাকিস্তান তাদের প্রতিশ্রুতিমতো যথাসময়েই সফরে আসবে।’