‘২০ হাজার টাকায় সৌদি যেতে পারবে একজন শ্রমিক’

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার উপর থেকে নিষেধজ্ঞা তুলে নিচ্ছে সৌদি আরব। শিগগিরই দেশটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা আসবে। আর সৌদি আরবের জনশক্তি বাজার খুলে গেলে দেশটিতে একজন শ্রমিক পাঠাতে বিমান ভাড়া বাদে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হবে। কর্মী প্রেরণের বিষয়ে সৌদি আরবের টেকনিক্যাল এক্সপার্টসহ একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে। তখনই শ্রমিক প্রেরণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হবে। রবিবার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সম্প্রতি সৌদি আরব সফরের বিষয়ে অবহিত করে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, সৌদি সরকার শিগগিরই শ্রমিক নেয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছে। গত শুক্রবার বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের মৃত্যুতে দেশটিতে শোকাবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা শ্রমিক নেয়ার ঘোষণা আসবে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে শ্রমিক নেয়ার বন্ধ করার কারণ ছিলো অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়। এ ব্যয়ের কারণে অনেকে অবৈধ কাজে জড়িয়ে পড়তো। গত দুই বছর ধরে আমরা প্রবাসী শ্রমিকদের বুঝিয়েছি। তাদের অপরাধ প্রবণতা কমেছে যে কারণে সৌদি সরকার আবারো শ্রমিক নিতে রাজি হয়েছে। একইসঙ্গে দুই পক্ষই অভিবাসন ব্যয় এবং কর্মী প্রেরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, অভিবাসন ব্যয় বাড়ার অন্যতম একটি কারণ ছিলো ভিসা ট্রেডিং। এটা বন্ধ করতে সৌদি সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। এখন থেকে কেউ নূন্যতম ভিসা ট্রেডিংয়ে জড়িত থাকলে সৌদি আইন অনুযায়ী ১৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে। ভিসা ট্রেডিং বন্ধ হলে সৌদি আরবে যেতে শ্রমিকদের তেমন খরচ লাগবে না। রিক্রুটিং এজেন্সি, যাতায়াত এবং মেডিকেলসহ অন্যান্য খরচ বহন করতে হবে তাদের। তাতে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়।
মন্ত্রী বলেন, দক্ষ শ্রমিকরাই সৌদি আরব যেতে সুযোগ পাবেন। সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে সব সেক্টরেই তারা লোক নেবে। এক্ষেত্রে বিদেশ যেতে আগ্রহী নিবন্ধিত শ্রমিকরাই যেতে পারবে। পাশাপাশি মালয়েশিয়া যেতে নিবন্ধিত শ্রমিকরাও সৌদি আরব যেতে পারবেন। সৌদি আরবে যাওয়ার আগে আগ্রহীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার কথা জানান সৌদি আরবের শ্রমমন্ত্রী আবদেল ফাকিহ। একইসঙ্গে তিনি শ্রমিকের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রমিক প্রেরণ প্রক্রিয়ায় আরো স্বচ্ছতা ও দুই পক্ষের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব তিনি।
উল্লেখ্য, সরকারি হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছে।