বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতরা বেগম খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে রবিবার তার গুলশান কার্যালয়ে গমন করেন। তারা সেখানে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন। তবে শোককাতর বেগম জিয়ার সঙ্গে কারো সাক্ষাত মেলেনি। মূলত বিকেল ৪ টার পর একে একে আসতে থাকেন বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতরা। ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ডেভিড মিলি, মিশরের রাষ্ট্রদূত মাহমুদ ইজ্জাত, চায়না রাষ্ট্রদূত লি জুন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূত শায়ের মোহাম্মদ, সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন নাসের আল বুসাইরী,পাকিস্তানের হাইকমিশনার আফ্রাসিয়াব মেহেদি হাশেমি কুরাইশি,ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার সন্দিপ চক্রবর্তী প্রমুখ শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।
বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট ও সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিকালে শোকাহত খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় যান। সঙ্গে ছিলেন মেজর অব.আবদুল মান্নান। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না,কবি ও চিন্তাবিদ ফরহাদ মজহার,সাবেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজিমসহ অনেকেই যান।
সকাল থেকে কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভিড় ছিল। বেলা একটার দিকে কার্যালয়ের ভেতরে যান নারায়ণগঞ্জের বিএনপি নেতা তৈমুর আলম খন্দকার এবং হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা নূর হোসাইন কাশেমির নেতৃত্বে পাঁচজন নেতা।
একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বেগম জিয়ার অফিস থেকে বেরিয়ের যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ভেতরে দেখলাম, ম্যাডাম ঘুমোচ্ছেন। তার শরীর খারাপ,আমাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো কথা হয়নি। একজন মা তার সন্তান হারিয়েছেন, চিকিত্সক যদি তাকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন, সে ক্ষেত্রে কারো তার সঙ্গে দেখা করা উচিত না। আমি হলেও বলতাম, দেখা করার দরকার নেই। বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে নতুন কোনো তালা লাগানো হয়নি, আগে যে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে চাবি সরকারের কাছে। সেই তালা বিএনপি খুলবে কী করে? চাবি না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনেও খোলা যায়নি। যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোথায় গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে, আর খালেদা জিয়া কোথায় ছিলেন? এ মামলা সম্পূর্ণ আশ্চর্যজনক। যে দিন তার ছেলে মারা গেল, সেদিন সন্ধ্যায়ই তাকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হলো, এটা বিস্ময়কর ব্যাপার।
মাহমুদুর রহমান মান্না সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালেদা জিয়া অনেক বড় নেত্রী। আমি এখানে এসেছিলাম। বেশ কিছুক্ষণ ছিলাম। কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা হয়নি। তার ঘুমের রেশ এখনও কাটেনি।