জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলার দায়িত্ব সবার--- আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা মানুষের সৃষ্টি। মানুষই এর সমাধান করবে। কাউকে দোষারোপ নয়, এ ক্ষতি মোকাবিলার দায়িত্ব সবার। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে উন্নত, উন্নয়নশীল এবং স্বল্পোন্নত সব দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে। ইতিমধ্যে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় কাজ করা শুরু করেছি। রবিবার স্থানীয় একটি হোটেলে ‘ইনটেনডেড ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন। ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, শুধু আমাদের জন্য নয়, ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় শুধু উন্নয়নশীল বিশ্ব নয়, আমাদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক দেশের আলাদা আলাদা সমস্যা রয়েছে। পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে সমস্যা থাকবেই। এ সমস্যার মোকাবিলা করেই আমাদের বাঁচতে হবে। বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীর জন্মলগ্ন থেকেই মানব সভ্যতা নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, একসময় দারিদ্র্য আমাদের দেশে বড় সমস্যা ছিল। এখন সে সমস্যার উত্তরণ হয়েছে। বিদেশিরা যখন শোনে আমরা চাল রপ্তানি করছি তখন তারা অবাক হয়ে যায়। নদী ভাঙন এবং অন্যান্য কারণে প্রতিবছর দুই শতাংশ জমি আমরা হারাচ্ছি। এরপরও দেশের জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে খাদ্য উত্পাদনও বাড়ছে। এক্ষেত্রে তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও কৃষিমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। বর্তমান বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যাকে গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, লিমার জলবায়ু সম্মেলনে ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এতে বুঝতে আর বাকি থাকে না যে, এই সমস্যাটা কতটুকু গুরুতর। আমাদের মনে রাখতে হবে, পরিবেশ দূষণের জন্য আমরাও দায়ী। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা এবং তুরাগ নদীর দূষণের কথা আমরা সকলেই জানি। এক্ষেত্রে উপমহাদেশের জনসাধারণের অভ্যাসের কথা উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, সেদিন আর বেশি দূরে নয়, যেদিন আমরা বাতাস, পানি দূষণ বন্ধ করে মানুষের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে পারবো। শিল্পখাতের পরিবেশ দূষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় শিল্পখাতে যেসব মেশিনারিজ ব্যবহার করা হতো এখন তার স্থলে অনেক উন্নত মেশিনারিজ ব্যবহার করা হয়। এসব মেশিন ব্যবহারের ফলে বাংলাদেশসহ নব্য শিল্পোন্নত দেশের পরিবেশ দূষণ কিছুটা হলেও কমেছে। পরিবেশ দূষণ মোকাবিলায় যারা গবেষণা করছে তাদের প্রশংসা করে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, রাষ্ট্রের নানা সমস্যা থাকবে। এসব সমস্যা সমাধানে আমাদের প্রথমে নির্ধারণ করতে হবে আমরা কি করতে পারি। সমস্যাগুলো বের করে সকলে মিলে তা সমাধান করতে হবে। 

অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের রিকার্ডো-এইএ-এর পরিচালক ক্রিস ডডওয়েল বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তারপরও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণ করতে পারলে অর্থায়ন তেমন সমস্যা নয়।