গাড়িতে ককটেল মেরে পালানোর সময় জনতার হাতে গণপিটুনির শিকার হয়েছে চট্টগ্রামের শিবির কর্মী সাব্বির হোসেন নকিব (২০)। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে পুলিশ হেফাজতে চিকিত্সাধীন রয়েছে। গতকাল রবিবার নগরীর জুবিলী রোড তিনপোলের মাথায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, হরতাল চলাকালে দুপুরে নগরীর ব্যস্ততম এই বাণিজ্যিক এলাকায় ককটেল মেরে সে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় জনতা ধাওয়া করে তাকে ধরে গণপিটুনি দেয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ধৃত শিবির কর্মী কক্সবাজার জেলার চকরিয়ার বড়ইতলী ইউনিয়নের বেলাল হোসেন মাস্টারের পুত্র। সে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
এদিকে নগরীর কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে গতকাল রবিবার দুপুরে তারেক হোছাইন (২৫) নামে এক শিবির নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় আরো তিনজন পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত তারেক চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শিবিরের সভাপতি। সে সাতকানিয়া উপজেলার আলীনগর খন্দকার পাড়া এলাকার মো. ইসমাইলের পুত্র। তার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
ফেনীতে বোমা-ককটেলসহ
গ্রেফতার ‘বোমা আজিম’
ফেনী সংবাদদাতা জানান, ফেনীতে ৭টি পেট্রোল বোমা ও ককটেলসহ বোমা আজিমকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রবিবার দুপুরে তাকে শহরের পানি উন্নয়ন বোর্ড এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, দুপুর ২টার দিকে বোমা আজিমকে গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তি মতে শহরের পশ্চিম ডাক্তার পাড়ার আড্ডাবাড়িতে পুলিশ তাকে নিয়ে অভিযান চালায়। এসময় টিএনটি টাওয়ারের নিচের একটি কক্ষ থেকে ব্যাগের ভেতর রক্ষিত ৭ টি পেট্রোল বোমা ও একটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। ফেনী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার জিয়াউল হক জানান, আজিমের বিরুদ্ধে হরতাল অবরোধে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
বগুড়ায় ১৫ শিবিরকর্মী গ্রেফতার
বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ায় পুলিশের ওপর হামলা ও চাঁদার দাবিতে এক ব্যক্তিকে অপহরণের অভিযোগে ছাত্র শিবিরের ১৫ কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরমধ্যে শহরের জামিলনগর ও সেউজগাড়ি থেকে ৮ জন এবং কলোনী এলাকা থেকে ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- শহরের জামিল নগর এলাকার হাজী ম্যানসন ছাত্রাবাসের শিবির কর্মী আল আমীন সরকার (২০), সেউজগাড়ি পালপাড়ার এমআর ম্যানসন ছাত্রাবাসে থাকা শিবির কর্মী নূরুন নবী (২২), শফিকুল ইসলাম (২০), আল আমিন (২৪), আবু জাফর (২৫), আরিফুল ইসলাম আরিফ (২৬), নূরুন নবী নূরু (২৪) ও আবু হাসান (২৩) এবং কলোনী এলাকার বেলজিয়াম মাঠ সংলগ্ন পরশ ছাত্রাবাসের রেজাউল করিম (১৮), ওবায়দুর রহমান (১৮), জাহিদুল ইসলাম (২০), কামরুল হাসান (১৮), নুরুজ্জামান (৩০), তুহিন আলী (১৮) ও শামিম রেজা (২২)। পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে নাশকতার নানা আলমত এবং বেশকিছু জিহাদি বই, চাঁদা আদায়ের রশিদ, কম্পিউটার, সিডি, প্রিন্টার, স্ক্যানার, কালো কাপড়ের মুখোশসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ৬টি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়।
জামিলনগরে অভিযানকালে চাঁদার দাবিতে অপহূত আব্দুল হালিম (৪০) নামের এক শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত হালিম গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের হাফিজার রহমানের ছেলে।