নিজের সন্তানের মৃত্যুর পরে হরতাল-অবরোধের নামে বিএনপি-জামায়াতের ছোড়া পেট্রোলবোমায় নিহত সন্তানদের মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ খালেদা জিয়া নিশ্চয় এখন বুঝতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার ‘বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি’ আয়োজিত ‘লাগাতার অবরোধ ও নাশকতার মাধ্যমে
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের’ প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উদ্দেশে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কোকোর স্বাভাবিক মৃত্যুতে আপনি এতো ভেঙে পড়েছেন। কিন্তু আন্দোলনের নামে যে বহু মায়ের বুক খালি করেছেন, এই মায়েদের আহাজারি কি আপনার কানে পৌঁছায় না?’। জনগণ আশা করছে আপনি মানুষ হত্যার রাজনীতির পথ পরিহার করে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় ফেরত আসবেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৫ আগস্টের মতো এমন শোকাবহ দিনেও বিএনপি নেত্রি কেক কেটে মিথ্যা জন্মদিন পালন করেন। অথচ অতীতের সব কিছু ভুলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনপি নেত্রীকে সমবেদনা জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ছুটে গিয়েছিলেন একজন মা হিসেবে সন্তান হারানো
অপর এক মাকে সান্ত্বনা দিতে। কিন্তু বিএনপি যে ধরণের ন্যাক্কারজনক ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তা শুধু রাজনৈতিকভাবেই না পারিবারিক ও সামাজিক শিষ্টাচার বহির্ভূতও
বটে। এই আচরণ বেগম জিয়া ও তার দলের নেতৃবৃন্দের হীন ও নোংরা মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি যখন বুঝতে পেরেছে তাদের এই ধরণের আচরণ জনগণ ভালোভাবে নিচ্ছে না এবং তাদের ধিক্কার দিচ্ছে তখন মউদুদ সাহেব বলছেন “ এই ধরণের আচরণ বিএনপির করা ঠিক
হয়নি”। কিন্তু এই ধরণের বক্তব্য দিয়ে আপনারা (বিএনপির নেতৃবৃন্দ) জনরোষ থেকে পার পাবেন না।
আওয়ামী লীগের এ প্রচার সম্পাদক আরো বলেন, অবরোধের নামে পেট্রোলবোমা দিয়ে নিরীহ মানুষ পুড়িয়ে মারার প্রতিবাদে জনগণ প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। যারা হামলাকারীদের ধরিয়ে দিচ্ছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই পাশাপাশি যারা এদের নির্দেশদাতা তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়ার জন্য জনগণকে আহ্বান জানাবো। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ হরতাল-অবরোধের নামে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতিও সাধারণ জনগণের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করায় আপনাদেরও ধন্যবাদ জানাই।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো.
আখতারুজ্জামান খান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সিরাজুল হক, সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক হাসিবুর রহমান মানিক প্রমুখ।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত অপর এক হরতাল ও অবরোধবিরোধী সমাবেশে ড. হাছান মাহমুদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশে শান্তিপূর্ণ অবস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত নাশকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলবে। নাশকতা সৃষ্টিকারীদের নির্দেশদাতাদেরও ঘেরাও করা হবে।