টানা অবরোধ ও হরতালে রাজশাহীতে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে ৭০ ভাগ লেনদেন কমেছে। ব্যবসায়ীরা লেনদেন না করায় উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান। এছাড়া অবরোধের ওপর হরতালের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা পরিবহনে ব্যাংকগুলোকে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।
রাজশাহী চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবু বাক্কার আলী বলেন, অবরোধে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। মালামাল পরিবহন করতে না পারায় বেচাকেনা ২০ ভাগে নেমেছে। আগের মজুদ মালামাল বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে কেনাবেচা চালিয়ে নিচ্ছেন তারা। ফলে তাদের ব্যাংকে যেতে হচ্ছে না।
ওয়ান ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ব্যবস্থাপক এম আব্দুল মান্নান বলেন, অবরোধের কারণে রাজশাহীর ব্যাংকগুলোতে প্রায় ৭০ ভাগ লেনদেন কমে গেছে। টানা অবরোধের কারণে ঋণ উত্তোলন বা ঋণের কিস্তির টাকা দিতে পারছে না ব্যবসায়ীরা। অর্থের সংকট না থাকলেও লেনদেন না হওয়ায় ব্যাংকগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানান তিনি।
ব্যাংকার আব্দুল মান্নান আরও বলেন, অবরোধে ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকে টাকা পরিবহনের। আইনশৃংখলা বাহিনীর পাহারা ছাড়া নিজস্ব পরিবহনে টাকা পাঠানো বা নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু সময়মত তাদের পাওয়া যাচ্ছে না বলেন তিনি।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারি কমিশনার (এসি) ইফতেখায়ের বলেন, অবরোধের প্রথম দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুলিশ পাহারায় একটি ব্যাংকের টাকা আনতে দিয়ে অবরোধকারীদের হামলার শিকার হয় বহনকারী গাড়ি। এরপর থেকে টাকা বহনের ক্ষেত্রে শতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অবরোধে নাশকতা প্রতিরোধে ব্যস্ততার কারণে ব্যাংকের কাজে চাহিদামত ফোর্স পাঠানো অনেক সময় সম্ভব হয় না। তবে সময় বেঁধে নির্ধারণ করে একসঙ্গে কয়েকটি ব্যাংকের টাকা পরিবহনের ব্যবস্থা নেয়া হয় বলেও জানান তিনি।