ভারতকে ৪০০ কোটি ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ভারতকে বিনিয়োগ এবং ঋণ বাবদ চারশ’ কোটি মার্কিন ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেছেন, ভারতে ব্যবসা করতে এখনো অনেক অসুবিধা আছে। গতকাল সোমবার বিকেলে মার্কিন ও ভারতের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ওবামা এ ঘোষণা দেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই ওবামা তার ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনের ব্যস্ততম সময় কাটান। বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থিতিশীল কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশ্বাস দেন। এর আগে গতকাল সকালে প্রেসিডেন্ট ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এদিকে ওবামা এবং মোদীর রেডিও ভাষণ রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সমপ্রচার করা হতে পারে।  খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও রয়টার্সের।

শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, বিশ্বের দুটি গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে ব্যবসা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বের সুযোগ বাড়াতেই তিনি এটি করতে চান। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের জন্য নন ইমিগ্রান্ট এইচবি-১ ভিসা চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী মোদীকে আশ্বস্ত করেন তিনি। ওবামা জানান, ইউএস এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট আমেরিকার তৈরি রপ্তানিতে একশ’ কোটি ডলার দেবে। ইউএস ওভারসিজ প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নতিতে একশ’কোটি ডলার ঋণ দেবে। ইউএস ট্রেড অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট এজেন্সি ফর রিনিউঅ্যাবল এনার্জি নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য বাকি দুইশ’ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই প্রকল্পকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। বৈঠকে ওবামা বলেন, আমাদের চলার পথ ঠিক আছে। এখনো অনেক অজানা বিষয় আছে যা ভারত-মার্কিন সম্পর্কের উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে। এজন্য আমাদের এখনো অনেক কিছু করতে হবে। তিনি বলেন, ভারতে এখনো অনেক বাধা আছে যার মধ্যে রয়েছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। এই বাধা দুই দেশের মধ্যে আমদানি, রপ্তানি, চুক্তি শুরু এবং শেষ করতে জটিলতার সৃষ্টি করে।  গতকালের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী মার্কিন উদ্যোক্তাদের জন্য স্থিতিশীল কর ব্যবস্থার অঙ্গীকার করে বলেন, গত চার মাসে ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ দ্বিগুণ হয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের ৫০টি শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। আজ মঙ্গলবার ওবামার দিল্লি সিরি ফোর্ট অডিটোরিয়াম ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে। এরপর তিনি আজই সৌদি আরবের উদ্দেশে ভারত ত্যাগ করবেন। রবিবার তিন দিনের সফরে সস্ত্রীক ভারতে আসেন ওবামা। তিনি দ্বিতীয়বারের মতো ভারত সফরে আসলেন। তার সফরকে কেন্দ্র করে ভারতে অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এছাড়া গতকাল ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ বিবৃতিতে দক্ষিণ চীন সাগরে নৌপথ উন্মুক্ত করারও অঙ্গীকার করা হয়। গতকাল হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই দুই দেশ দশ বছরের একটি প্রতিরক্ষা ফ্রেমওয়ার্ক গড়ে তোলারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার দুই দেশ ২০০৮ সালের পরমাণু চুক্তি বাস্তবায়নে ঐকমত্যে পৌঁছায়।