পর্যটকশূন্য কক্সবাজারের ইনানী সৈকত

২০ দলীয় জোটের টানা অবরোধ, হরতালে পর্যটক না আসার কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইনানী সমুদ্র সৈকত। ভরা মৌসুমেও পর্যটকবিহীন ইনানী সৈকতের হোটেল-মোটেল ও গেস্ট হাউসগুলোতে পর্যটক না থাকায় তারাও পড়েছে লোকসানের মুখে। পাশাপাশি পর্যটনশিল্পের সাথে জড়িত হাজারো পরিবারে নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। ইনানী বিচ ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা হলে উঠে আসে এমন হতাশার চিত্র।

ইনানী বিচ ইজারাদার মৌলভী আবুল মনজুর জানান, জেলা পরিষদ থেকে ৪ লক্ষ ৬০ হাজার টাকায় চলতি মৌসুমের জন্য ইনানী সি-বিচ ইজারা নেয়া হয়েছে। পর্যটন স্পটের উন্নয়নের জন্য আরো অর্ধলক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।   নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ ৪ মাস পর্যটনের ভরা মৌসুম হিসেবে পর্যটন খাতে বিনিয়োগকৃত টাকা উত্তোলনের জন্য অধীর আগ্রহভরে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু টানা অবরোধ, হরতালের মুখে পর্যটক না আসার কারণে সে আশার গুড়ে বালি। তিনি বলেন, পর্যটনে প্রায় ২০ জন কর্মী রয়েছে। এসব কর্মীর বেতন কীভাবে দেব তাও ভেবে পাচ্ছি না।
বিচ সংলগ্ন আন্তর্জাতিক মানের হোটেল ‘প্যাবেল স্টোনে’ গিয়ে দেখা যায় পর্যটকবিহীন চোখে-মুখে হতাশার ছাপ নিয়ে বসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জানতে চাওয়া হলে হোটেলের ম্যানেজার মাঈনউদ্দিন জানান, বুকিং দেয়া পর্যটকরা না আসাতে তাদের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। অবরোধের কারণে হোটেল ব্যবসা এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে কর্মচারীদের বেতন পর্যন্ত দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। পর্যটকদের ছবি তুলে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন স্থানীয় কোটবাজার এলাকার আবু তাহের। তিনি জানান, পর্যটক থাকলে দৈনিক দেড় থেকে দু’হাজার টাকা আয়-রোজগার হয়। পর্যটক না থাকার কারণে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে বলে হতাশ কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান। বিচের পান-সিগারেট দোকানি আবুল কাসেম জানান, পর্যটক থাকলে দৈনিক ২/৩ হাজার টাকা পান-সিগারেট বিক্রি হয়। অবরোধের কারণে তাকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।

ইনানী বিচ বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি সৈয়দ হোছাইন জানান, অবরোধের কারণে বিচে যে সমস্ত ব্যবসায়ী রয়েছেন সবাইকে লোকসান দিতে হচ্ছে। ইজারাদারের সেলামি ও ভাড়ার টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে না। তিনি জানান, এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে সবাইকে ব্যবসা বাণিজ্য গুটিয়ে চলে যেতে হবে। বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তাসহ সব ধরনের প্রস্তুতি থাকলেও পর্যটকশূন্য ইনানী।