রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ চলছে মন্থর গতিতে। দীর্ঘ ১৮ বছরে শুধুমাত্র সড়ক ও ভূমি উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। মূল অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরুই হয়নি। এছাড়া রাজউক কর্তৃপক্ষ অতিসমপ্রতি পূর্বাচল প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের সময়সীমা নতুন করে আরো ৩ বছর বৃদ্ধি করায় চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে হাজার হাজার প্লট গ্রহীতার মাঝে।
এদিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্প হবে একটি নান্দনিক শহর। পূর্বাচল প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ চলছে। স্যুয়ারেজ, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টসহ অন্যান্য কাজ সম্পাদনের জন্য চীন, সিংঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার সাথে আলোচনা চলছে। আগামী জুন মাসে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে বাড়ি করার জন্য প্ল্যান পাস করা শুরু হবে।
কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত ২৫ হাজার আবাসিক প্লটের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার প্লট হস্তান্তর করেছে। বাকি ২০ হাজার আবাসিক প্লটের সাথে আরো প্রায় ৫ হাজার শিল্প, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য প্লট রয়েছে।
এদিকে কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও ভূমি উন্নয়নের কাজ শেষ করতে পারেনি রাজউক। ১৯৯৫ সালের জুন মাস থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময় ধরে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কাজ শুরু করে রাজউক। বর্তমানে প্রকল্প এলাকার মধ্যে সড়ক ও ভূমি উন্নয়নের কাজ চলছে।
নতুন সময় অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হবে। এতে ১০ কাঠা, সাড়ে সাত কাঠা, পাঁচ কাঠা ও তিন কাঠার মোট ছয় হাজার প্লট রয়েছে। ৩০টি সেক্টরে বিভক্ত এই প্রকল্পের উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত সংযোগ সড়ক, অভ্যন্তরীণ সড়ক, লেকের পাড় বাঁধাই ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজই শেষ করতে পারেনি। ৩০টি সেক্টরের মধ্যে রূপগঞ্জে ২৩টি সেক্টর আর সাতটি হবে কালীগঞ্জ এলাকায়।
পূর্বাচল নতুন শহর বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক ও রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্থানীয়দের বাধা ও মামলা মোকাবিলায় আমাদের কাজ সময়মতো করতে পারছি না। কাজ করতে গেলেই স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের লোকজন নিয়ে বাধা দেয়। তাছাড়া অনেক সময় আমাদের লেবারদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়।
দেশের প্রখ্যাত স্থপতি সৈয়দ মোবাশ্বের আলী ইত্তেফাককে বলেন, পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পরিবেশগত কোন সমস্যা হবে না। বরং এলাকার উন্নয়ন হবে। সেখানে সুন্দর ও পরিকল্পিত একটি আবাসিক এলাকা গড়ে উঠবে। এখন যারা এর বিরোধিতা করছেন তারাও উপকৃত হবেন। পরিকল্পিত নগরীর সুবিধা ভোগ করবেন।
রাজউক চেয়ারম্যানের বক্তব্য
রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ডিএম জয়নুল আবেদীন ভুঁইয়া ইত্তেফাককে বলেন, আগামী শত বছরের পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে পূর্বাচল প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে। পূর্বাচল হবে রাজধানীতে সর্বাধুনিক ও পরিবেশ সম্মত নান্দনিক নগরী। এই শহর দেখতে দেশি-বিদেশি অনেক লোক ভিড় জমাবে। ইতিমধ্যেই প্রকল্পে গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কার হয়েছে, বিদ্যুত্ খুঁটিও স্থাপন করা হয়েছে। অনেকে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
তিনি বলেন, এটিই হবে বাংলাদেশের পরিকল্পিত সর্ববৃহত্ আবাসিক প্রকল্প এবং একটি পূর্ণাঙ্গ শহর। যেখানে থাকবে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মার্কেট, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স, বিনোদন স্পট, খেলাধুলার মাঠ এবং মসজিদসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। তিনি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এলাকাবাসীর সহায়তা কামনা করেন।