‘সংলাপ নয়, সহিংসতার সমাধান রাজপথেই’

বিদ্যমান সহিংস পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি বলেছেন, এর ফয়সালা হবে রাজপথে। আর খালেদা জিয়া যদি হুকুম দিয়ে মানুষ মারা বন্ধ না করেন তবে তার স্থান হবে কাশিমপুর কারাগারে। দিনক্ষণ দিয়ে নাশকতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সাময়িক অভিশাপ চলছে, নিয়ন্ত্রণে সময় লাগবে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে এক সংলাপ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সচিবালয় বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজনে সংগঠনটির কার্যালয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালক ছিলেন সংগঠনের সভাপতি শ্যামল সরকার। প্রধান তথ্য কর্মকর্তা তছির আহমেদ, উপ-প্রধান তথ্যকর্মকর্তা জয়নুল আবেদিন এবং সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমেরিকা-লন্ডনের মতো স্থানেও সন্ত্রাস দমনে সময় লাগে। আমাদের এখানে মাত্র অল্প কয়েকটি জেলায় নাশকতা চলছে। নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
খালেদা জিয়াকে ‘নাশকতার রাণী’ উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের সাথে কোন সংলাপ হতে পারে না। অগণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে গণতান্ত্রিক শক্তির সংলাপ হয় না। জঙ্গিবাদের সঙ্গে সমঝোতা বা আপোসের কোনো সুযোগ নেই। এটা গণতন্ত্র বনাম সাম্প্রদায়িতকা ও জঙ্গিবাদের সমস্যা।
আজ সারাদেশে অবরোধের নামে যে হত্যাযজ্ঞ চলছে সে বিষয়ে খালেদা জিয়া হুকুমের আসামি হিসেবে দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারবেন না। তার জায়গা হবে কাশিমপুর কারাগারে।
ইনু বলেন, এই মুহূর্তে নাশকতা-অন্তর্ঘাত বন্ধ করা প্রয়োজন। ড. কামাল হোসেনসহ যারা সরকারকে সংলাপের জন্য বলছেন, তাদের উদ্দেশে বলবো, আগে খালেদা জিয়াকে নাশকতা-অন্তর্ঘাত বন্ধ করতে বলুন।
তিনি বলেন, আগে দেশটাকে বাঁচান, মানুষ বাঁচান। যারা সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলছেন, তাদেরকে বলবো, আগে খালেদা জিয়াকে বলুন, জ্বালাও-পোড়াও বন্ধ করতে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছেন অবরোধ চালিয়ে যাবেন। কিন্তু অস্থিরতা কেন? আমরা জানি, তার কোথাও তাগাদা আছে। কারণ, তার মিত্র যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে, সাকার যেকোনো দিন ফাঁসি হবে, তার ছেলের বিচারও হবে। দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় তার মিত্রদের ফাঁসি হবে। এতিমদের অর্থ আত্মসাতের জন্য তার বিরুদ্ধেও রায় হতে পারে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারও চূড়ান্ত পর্যায়ে। যে কারণে তার অস্থিরতা।
সংলাপ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের আগে বেশ কয়েকবার আলোচনার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি বর্জন করেছেন। খালেদা জিয়ার আন্দোলনে জনগণের এজেন্ডা নেই। তার পারিবারিক ও ব্যক্তিগত এজেন্ডা রয়েছে।
গণতন্ত্র দৃঢ় করার জন্য নয়, গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য খালেদা জিয়া অবস্থান নিয়েছেন মন্তব্য করে ইনু বলেন, আজ পর্যন্ত তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেননি। নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করার কথা বলেছেন, কিন্তু কোনো ফর্মুলা দেননি।
স্থায়ী সমাধান চান না-কি এক বছরের জন্য সমাধান চান- প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমরা ৯০ সালে স্থায়ী সমাধান করতে পারিনি। যার ফলে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হচ্ছে।