ওয়ার্ল্ড হকি লিগের আগের আসরে তৃতীয় হওয়ায় এবার দলটিকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিলো আরো ভালো কিছু করার। কিন্তু সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হকি লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে ষষ্ঠ হয়ে সোমবার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় ফিরে বাংলাদেশ হকি দল।
বিশ্ব হকির এই টুর্নামেন্টে বাজে পারফরম্যান্সের কারণে ভাগ্যকেই দুষলেন জাতীয় দলের সহ-অধিনায়নক সারোয়ার হোসেন।
মঙ্গলবার জাতীয় দলের এই খেলোয়াড় বলেন, ‘সিঙ্গাপুরে আশানুরূপ রেজাল্ট হয়নি। আমরা আমাদের শতভাগ দিয়ে খেলার চেষ্ঠা করেছি। কিন্তু ভাগ্য পক্ষে ছিল না। তাছাড়া ওমানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ খেলায় আম্পায়ার আমাদের বিপক্ষে অনেক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমরা দুই দফা এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারিনি।’
এক প্রশ্নের জবাবে সারোয়ার বলেন, ‘ওমানের বিপক্ষে আমরা একাধিক আক্রমণ করেছি। ব্যক্তিগতভাবে আমিও একাধিক আক্রমন করেছি কিন্তু দুর্ভাগ্য পোষ্টে হিট করতে পারিনি। তাছাড়া আম্পায়ারও আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে কাজ করেছেন। ২৫ মিনিট আমাদেরকে দুইজন কম খেলোয়াড় নিয়ে লেখতে হয়েছে।’ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি কোন ঘাটতি ছিলো কিনা জানতে চাইলে সারোয়ার বলেন, ‘না প্রস্তুতিতে কোন ঘাটতি ছিলো না, আমরা একাধিক প্রস্তুতি মূলক ম্যাচ খেলেছি। আসলে ভাগ্য খারাপ ছিল।’
২০১৩ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হকির প্রথম আসরে দ্বিতীয় রাউন্ডে তৃতীয় হওয়া এবার তৃতীয় রাউন্ডে খেলার স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। কিন্তু সদ্যশেষ হওয়া আসের ষষ্ঠ হয়েছে বাংলাদেশ দল। হকি দলের এমন অধপতন প্রসঙ্গেত জাতীয় দলের ম্যানেজার কামরুল ইসলাম কিসমত বলেন, ‘ওমানের বিপক্ষে কোয়াটার ফাইনালের ম্যাচটায় আমরা জিততে পারলে তৃতীয় দল হিসেবে তৃতীয় রাউন্ডে খেলার সুযোগ পেতাম। মূলত আম্পায়ারের পক্ষপাতিত্তের কারণে সেটা হয়নি। ওমান-বাংলাদেশের ম্যাচে শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার আমাদের বিপক্ষে বাশি বাজিয়েছেন। যার কারণে আমারা এগিয়ে থেকেও জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারিনি।’
সে ম্যাচে আসলে কি হয়েছিল? ‘সারোয়ার বলে হিট করলে তার স্ট্রিক গিয়ে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের গায়ে লাগে। তখন আম্পায়ার তাতে হলুদ কার্ড দিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেয়। পরের মিনিটে শিতুলকেও কার্ড দেখান আম্পায়ার। দলের এই গুরুত্বপূর্ণ দুইজন খেলোয়াড়কে হারানেরা করণে শেষ দিকে আমাদের গোল খেতে হয়। সে ম্যাচে আমরাই জিততাম। কিন্তু আম্পায়ারের কারণে হারতে হয়েছে। খেলা শেষে বাজে আম্পায়ারিংয়ের জন্য আমরা এফআইএইচের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সেখানে আমরা বলেছি ভবিষ্যতে এমনটি হলে আমরা আর কখনও প্রতিযোগিতায় অংশ নিবো না।’—এমন অভিযোগই করলেন ম্যানেজার।