পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের বিশ্বসেরা বাহিনীতে পরিণত করার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। গতকাল মঙ্গলবার বার্ষিক মহড়া শেষে নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অফিসার ও সিম্যানদের উদ্দেশে ভাষণদানকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘সমুদ্র জয়’-এ অবস্থান করে নৌবাহিনীর দুই ঘণ্টাব্যাপী রোমাঞ্চকর মহড়া ‘এক্সারসাইজ সি থান্ডার-২০১৫’ দেখেন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। গত ১৩ জানুয়ারি এই মহড়া শুরু হয়ে গতকাল মঙ্গলবার শেষ হয়।
মহড়ার লক্ষ্য ছিল নতুনভাবে অর্জিত সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা, সামুদ্রিক এলাকায় নজরদারি, উপকূলীয় এলাকায় নৌবাহিনীর ঘাঁটিসমূহের সুরক্ষা এবং সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এর আগে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল মুহাম্মদ ফরিদ হাবিব আর আর বি টার্মিনালে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্র-বিরোধ মামলায় জয়ী হয়ে বিশাল এলাকায় সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। নতুনভাবে উদ্ধারকৃত সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৌবাহিনীকে সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস ও মত্স্য সম্পদ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘সমুদ্র জয়’ সংগ্রহের পাশাপাশি ‘আবুবকর’ ও ‘আলী হায়দার’ নামে চীন থেকে দুটি জাহাজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে নৌবাহিনী সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম ও খুলনায় ঘাঁটির বিশেষায়িত ইউনিট, জাহাজ, টহল বিমান ও হেলিকপ্টার এই মহড়ায় অংশ নেয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এবং সামুদ্রিক ইনস্টিটিউটও মহড়ায় অংশ নেয়।