পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জামায়াত কর্মী নিহত

 
 
রাজশাহীতে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জামায়াত নেতা নুরুল ইসলাম শাহীন (৪৫) নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে মহানগর বাইপাসের নলখোলা আশরাফের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 
 
নগরীর বিনোদপুরের আব্দুর রহমানের ছেলে শাহীন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং সর্বশেষ ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন তিনি।
 
এদিকে ই-মেইলে পাঠানো রাজশাহী মহানগর জামায়াতের এক বিজ্ঞপ্তিতে নুরুল ইসলাম শাহীনের মৃত্যুকে ‘হত্যা’ দাবি করে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিভাগীয় জামায়াত। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় আগামী ৩১ জানুয়ারি (শনিবার) ভোর ছয়টা থেকে ১লা ফেব্রুয়ারি (রবিবার) সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ৩৬ ঘন্টা হরতাল এবং ৩০ জানুয়ারি শুক্রবার বিভাগের আট জেলায় দোয়া দিবস। এছাড়া ঘটনায় জড়িত পুলিশের সদস্যদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জামায়াত নেতারা।
 
পুলিশের দাবি, ‘শাহীন জামায়াত-শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার এবং তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা, সন্ত্রাস, বোমাবাজি ছাড়াও মতিহার থানার (ওসি) আবদুল মজিদের পা ভাঙাসহ ১১ মামলার ৮টিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।’
অন্যদিকে পিতার দাবি, ‘শাহীন বিনোদপুর ইসলামিয়া কলেজে শিক্ষকতা ও মালোপাড়ায় প্রেসের (পদ্মা অফসেট প্রেস) ব্যবসা করতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান জাহিন (৯) ও রাহিনকে (১) নিয়ে থাকতেন হেতেমখাঁর ভাড়া বাসায়। পুলিশ তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।’
বুধবার দুপুরে সদর দফতর সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মো. শামসুদ্দিন জানান, নিহত নুরুল ইসলাম ওরফে তাগু শাহীন নগরীতে জামায়াত-শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডারদের বিভিন্ন ধরনের নাশকতায় নেতৃত্ব দিতেন।
 
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতে আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্যানুযায়ী নগর গোয়েন্দা পুলিশ রাতেই শাহীনের সহযোগীদের গ্রেফতার, অস্ত্র উদ্ধারে বের হয়। রাত সোয়া দুইটায় পুলিশ নলখোলা আশরাফের মোড় এলাকায় পৌঁছালে ওৎ পেতে থাকা শাহীনের সহযোগীরা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণ করে। আত্মরক্ষা ও সরকারি জানমাল রক্ষার স্বার্থে পুলিশও পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। এসুযোগে শাহীন পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে পালানোর সময় দুইপক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে আহত হয়। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
 
ঘটনাস্থল থেকে একটি রিভলবার, ১০টি ককটেল, পিস্তলের দুটি এবং শর্টগানের তিনটি গুলি উদ্ধার হয়েছে। শিবিরের ককটেলের ¯িপ্রন্টারে কনস্টেবল মোজাফ্ফর হোসেন ও গোলাম মোস্তফা আহত হওয়ায় তাদের পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় আরএমপির উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।