হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তায় ফের উদ্বেগ!

 
বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত রাষ্ট্রীয় বাসভবনটির নাম হোয়াইট হাউজ। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনির এই হোয়াইট হাউজে বাস করেন বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বরে ছুরি হাতে লোহার বেরিকেড টপকে এক ব্যক্তি ঢুকে পড়েছিল হোয়াইট হাউজের দক্ষিণ হলের ভেতরে। এর আগে ২০১১ সালের নভেম্বরে এক ব্যক্তি সেমিঅটোম্যাটিক অস¿ দিয়ে গুলি চালায় হোয়াইট হাউজে। এ দুটি ঘটনায় হোয়াইট হাউজের পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়। কংগ্রেসের প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে পদত্যাগে বাধ্য হন তত্কালীন সিক্রেট সার্ভিস প্রধান। এতকিছুর পরও সোমবার ড্রোন ঢুকে পড়ার ঘটনায় হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তাকে আবারো প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
 
হোয়াইট হাউজের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্যেই দুই কন্যা মালিহা ও শাশাকে রেখে নিশ্চিন্তে দুদিনের জন্য ভারত সফরে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আর এরই মধ্যে ঘটে গেলো যত ঘটনা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সোমবার একটি ড্রোন আছড়ে পড়ে হোয়াইট হাউজের সাউথ গ্রাউন্ডে। ফলে আবার হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর সরব হয়ে উঠেছে রহস্য উদঘাটনে।
 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট যে দল, যে বর্ণ বা যেই হোন না কেনো তাকে এবং তার পরিবারকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সিক্রেট সার্ভিসের। বিশ্বের সবচেয়ে সুশিক্ষিত, স্মার্ট, সাহসী আর চৌকস ব্যক্তিদের নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এই সিক্রেট সার্ভিস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাদের এই সুনামে যেন ছেদ পড়ছে বারবার।
 
স্থানীয় সময় সোমবার দিবাগত রাত তিনটা ৮ মিনিটে সিক্রেট সার্ভিসের চোখ ফাঁকি দিয়ে হোয়াইট হাউজের সাউথ গ্রাউন্ডে একটি দূর নিয়ন্¿িত ড্রোন আছড়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে পুরো হোয়াইট হাউজ লক ডাউন করা হয়। খোঁজ চলতে থাকে ড্রোনের মালিক ও নিয়ন্¿ণকারী ব্যক্তির।  হোয়াইট হাউজের মূখপাত্র জোস আর্নেস্ট এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটা চলমান কোনো সন্¿াসবাদী ঘটনার অংশ বলে মনে হয়নি। একইসঙ্গে তিনি সিক্রেট সার্ভিসের ভ্থমিকার প্রশংসাও করেছেন।
 
তারপরও প্রশ্ন উঠেছে ড্রোনটি হোয়াইট হাউজের আঙ্গিণায় ঢোকার আগেই কেনো রোধ করা গেলো না ? কেনো, কী উদ্দেশ্যে এই ড্রোন সেখানে পাঠানো হলো? কোনটাকে নিরাপত্তা আর কোনটাকে অনিরাপদ বলা যায়?
সিক্রেট সার্ভিসের পক্ষ থেকে স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ড্রোনটির মালিক এবং নিয়ন্¿ণকারীকে সনাক্ত করা গেছে। ডোনের মালিক জাতীয় ভৌগলিক অবস্থান প্রযুক্তিবিদ্যা বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত। সংস্থাটি সরকারের মানচিত্র এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে।
সিক্রেট সার্ভিসের মূখপাত্র ব্রায়ান ল্যারি বলেন, ড্রোনটির পরিচালনাকারী এবং মালিক তদন্তের ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। তবে এটা ডিভাইস নিয়ে বিনোদন করার একটা ফল। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, ঘটনার সময় ওই ব্যক্তি ডিউটিতে ছিলেন না এবং এটা তার কাজের আওতার মধ্যেও পড়ে না।
এর আগে নিরাপত্তা ভেদ করে  এক দম্পত্তির হোয়াইট হাউজে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ঢুকে পড়াসহ একাধিক নিরাপত্তা বিঘ্নের ঘটনা ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। গত সেপ্টেম্বরের ঘটনার পরে সিক্রেট সার্ভিস প্রধান জুলিয়া পিয়েরসন কংগ্রেশনাল তদন্তের মুখে পড়ে নানা প্রশ্নবানে জর্জড়িত হয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ওই সময় সিক্রেট সার্ভিসের দায়িত্বশীলতা এবং ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। নতুন করে হোয়াইট হাউজের আঙ্গিণায় ড্রোন ক্র্যাশ হওয়া নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে হোয়াইট হাউজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
 

সিক্রেট সার্ভিসের বর্তমান প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ছাড়াও, সাবেক ও বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্টসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংস্থার নিরাপত্তার জন্য কাজ করে থাকেন। জুলিয়া পিয়েরসনের পদত্যাগের পর সিক্রেট সার্ভিসের বর্তমান  ভারপ্রাপ্ত পরিচালকের নাম জোসেফ পি. ক্ল্যান্সি। এখন তিনি কী করবেন এটাই এখন দেখার বিষয়।