বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধের কোনো নির্দেশনা আমাদের ওপর নেই। আমরা এ ধরনের কোনো নির্দেশনা সৈনিকদেরও দিইনি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসামরিক প্রশাসন বিশেষত র্যাব ও পুলিশকে সহয়তার জন্য আমরা কাজ করছি। এজন্য আমরা সীমান্তের একজন সৈনিককেও ব্যবহার করছি না, বরং এ ধরনের পরিস্থিতিতে কেউ যেন সুযোগ নিতে না পারে তার জন্য সীমান্তে শক্তি বাড়ানো হয়েছে। এসব কিছুতে আমরা রিজার্ভ ফোর্স ব্যবহার করছি। সদস্যদের ছুটিও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, হরতালের সময় চাহিদা অনুযায়ী বিজিবি দিতে পারছি না।
বৃহস্পতিবার সকালে যশোরের ঝুমঝুমপুরে অবস্থিত বিজিবি’র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রিজিয়ন হেড কোয়ার্টারে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করছিলেন তিনি।
ইত্তেফাক প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে গুলির নির্দেশ নতুন কিছু নয়। যেদিন থেকে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে, সেদিন থেকেই ‘রুলস অব এনগেজমেন্ট’ অনুযায়ী প্রয়োজনে গুলির নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। তবে ২০১৩ সালের মতো ভয়ানক পরিস্থিতি কিংবা শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশেও বিজিবি একটি গুলিও ব্যবহার করেনি দাবি করে তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা এতটুকুও সাহস পায়নি বিজিবি-কে উদ্দেশ্য করে পেট্রোল বোমা ছোড়ার। ছুড়লে বিজিবি তার নির্দেশনা পালন করবে।’
বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ভারতের সাথে যতবার বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক হয়েছে, ততবারই এক নম্বর এজেন্ডা থাকে, সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার। ২নং এজেন্ডা মাদক বিশেষত ফেনসিডিল চোরাচালান বন্ধ করা। আমাদের দাবির মুখে সীমান্ত সংলগ্ন অনেক ফেনসিডিল কারখানা ভারত বন্ধ করে দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ফেনসিডিল আসা এখন অনেক কমে গেছে। এর অর্থ আবার এটাও নয় যে ইয়াবা পাচার বেড়েছে। ইয়াবাও আমরা কমিয়ে এনেছি।
তিনি জানান, ২০১৪ সালে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের হাতে ১২ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। মতবিনিময়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি’র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রিজিয়ন কমান্ডার অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডিএসএম শহীদুল ইসলাম, খুলনা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খলিলুর রহমান, কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল জাবেদ সুলতান, রিজিয়ন গোয়েন্দা প্রধান লে. কর্ণেল মতিউর রহমান প্রমুখ।