বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অবরোধের ২৪তম দিন বৃহস্পতিবার হরতাল চললেও তেমন পিকেটিং হয়নি। অবরোধে আগের দিনগুলোর মতোই রাজধানীর জনজীবনে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিআরটিসি দোতালা বাসে অবরোধকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয়। নিউমার্কেটের ২ নম্বর গেটের সামনে সন্ধ্যায় দুইটি ককটেল বিস্ফোরণে ৮ জন পথচারী আহত হয়। আহতরা হলেন—নাজিম উদ্দিন, পিয়ার হোসেন, শাহজাহান, শহীদুল্লাহ, হাজারী, জামাল, সীমান্ত ও সজল। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সকাল থেকেই গণপরিহনের যানবাহন অন্যান্য দিনের তুলানায় ছিল বেশি। সরকারি অফিস, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও গার্মেন্টস কারখানায় স্বাভাবিক কার্যক্রম হয়েছে। তবে রাজধানীর স্কুল ও কলেজ খোলা থাকলেও বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে ক্লাস হয়নি।
অবরোধের পাশাপাশি হরতালের কারণে রাজধানীর তিনটি বাস টার্মিনাল দূরপাল্লার রুটের বেশ কিছু বাস ছেড়ে গেছে। গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে গড়ে দুই শ থেকে আড়াই শ বাস ছেড়ে গেছে। ঢাকার আশপাশের জেলার সঙ্গে বাসচলাচল অনেকটা স্বাভাবিক ছিল।
কমলাপুর রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে—ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন রুটে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো বিলম্বে চলাচলের সময় অনেক কমে এসেছে। তবে এখনো কয়েকটি ট্রেন গড়ে ৪-৫ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করছে। কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানান— কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন নির্ধারিত সময়ের পর দুই ঘণ্টা থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে চলাচল করছে।
নিউমার্কেটের ২ নম্বর গেটের সামনের রাস্তায় সন্ধ্যায় অবরোধকারীরা দুটি ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায়। ককটেল দুটি ফুটপাতে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এতে ৮ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে ঢাকা কলেজের এইচএসসি শিক্ষার্থী পিয়ার হোসেনের অবস্থা গুরুতর। সে কপালে ও দুই হাতে আঘাত পেয়েছে। আহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহিদুল রয়েছেন।