তামিমের দুই চ্যালেঞ্জ

 
 
অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের লড়াইটা মূলত বাউন্সি উইকেটের সাথে। এর সাথে বিরুদ্ধে কন্ডিশন তো আছেই। তবে, তামিম ইকবালের ব্যাপারটা ভিন্ন। কন্ডিশন-উইকেট তো আছেই; এর সাথে আরও এক লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে এই ওপেনারকে।
 
সেই লড়াইটা হল ফিটনেস ফিরে পাওয়ার যুদ্ধ। অস্ত্রোপচারের পর ঢাকাতেই শুরু হয়েছিল সেই যুদ্ধের প্রথম ধাপ। তাতে অগ্রগতিটাও বলার মতো বলেই মানছেন কোচ। তবে, একই সাথে শতভাগ ফিট তামিমকে বিশ্বকাপের আগেই চাই কোচ হাতুরুসিংহের। সব মিলিয়ে তাই থেমে নেই তামিমের লড়াই। ব্রিসবেনে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন তিনি। আর যোগ দিয়েই শুরু করেছেন লড়াই।
 
ব্রিসবেনে অনুশীলনের প্রথম দিনে নেটে লম্বা সময় কাটান তামিম। হাঁটুর ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা তামিমের জন্য এখন পুরো ফিট হয়ে ব্যাটিংয়ে দলকে শতভাগ দেয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। গত মাসে এই অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নেই ডাক্তার ডেভিড ইয়ংয়ের কাছে হাঁটুর অস্ত্রোপচার করান তামিম। সেখান থেকে ঢাকা হয়ে ব্রিসবেনের ক্যাম্পে যোগ দেয়ার আগে আরেকবার ডাক্তার ইয়ংয়ের সাথে দেখা করেন তামিম। মেলবোর্নে গত মঙ্গলবার তার তৃতীয় দফার ইনজেকশনও দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ফিরে গত বুধবার জাতীয় দলের সাথে যোগ দিয়েছেন তামিম। এখন বাকীদের সঙ্গে মিলে অস্ট্রেলিয়ার অপরিচিত কন্ডিশনে নতুন কিছু করার চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন তিনি।
 
আর বৃহস্পতিবার তো চলে এলেন অনুশীলন মাঠ — অ্যালান বোর্ডার ওভালেই। দলের ম্যানেজার ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘তামিম আজ (গতকাল) জাতীয় দলের সাথে অনুশীলন করেছে। দলের সাথে ওয়ার্ম আপ করার পর নেটে ব্যাটিং করে। তবে, স্প্রিন্ট সেশনে ও ছিল না। তবে, কিছুদিন যাওয়ার পর সেটাও করতে পারবে তামিম।’
 
ব্রিসবেনে নিজেদের আয়োজনে এই ক্যাম্পটা করার উদ্দেশ্যই হল অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশন ও উইকেটে নিজেদের মানিয়ে নেওয়া। সেই লক্ষে অ্যালান বোর্ডার ওভালের নেটে স্থানীয় লম্বা লম্বা ফাস্ট বোলারদের খেলে নিজেদের প্রস্তুত করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন ব্যাটসম্যানরা। কেবল তামিম নয়, এই চ্যালেঞ্জটা আসলে পুরো দলই নিচ্ছে। একটি বার্তা সংস্থাকে অধিনায়ক মাশরাফি একদিন আগে বলেছেন, তারা কন্ডিশন নিয়ে সব আতঙ্ক ও গত বছরের বেশীরভাগ সময়টা জুড়ে চলা খারাপ ফলাফলের হতাশাকে ছিটকে ফেলে দিতে চান। সে জন্য তারা প্রস্তুত বলেই দাবি করছেন, ‘আমার হাতে যে স্কোয়াড আছে, তাতে আমি আশাবাদী যে, কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়া সম্ভব। কন্ডিশনের অসুবিধা না ভেবে সুবিধাটাই কাজে লাগাতে হবে।’
উল্লেখ্য, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যানাবেরায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের ভেতর দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান। তার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ নিবিঢ় অনুশীলনে সময় কাটাবে ব্রিসবেনের অ্যালান বোর্ডার ওভালে নিজেদের আয়োজনে তৈরী করা বেসক্যাম্পে। এই মাঠেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচিত একাদশের বিপক্ষে ফেব্রুয়ারির ১ ও ৩ তারিখে দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলে নিজেদের ঝালিয়ে নেবেন মাশরাফিরা।

এরপর আইসিসির অধীনে চলে যাওয়ার পর তাদের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ দুটি অনুশীলন ম্যাচ খেলবে সিডনিতে; ৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে ও ১২ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।