রবিবার কার্যকর হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য আইন

অবশেষে কার্যকর হচ্ছে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন’। এর ফলে অনিরাপদ খাদ্য উত্পাদন, প্রক্রিয়াকারী বা বিক্রেতার বিরুদ্ধে যে কেউ সরাসরি মামলা দায়ের করতে পারবেন। আগে এ সুযোগ ছিল না। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আইনটি কার্যকর হবে। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে খাদ্যমন্ত্রী অ্যাড. কামরুল ইসলাম এ কথা জানান।

আইনে ২৩ ধরনের অপরাধে এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ৪ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া খাদ্যের বিষাক্ত উপাদান (ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ফরমালিন, সোডিয়াম সাইক্লাইমেট, ডিডিটি, পিসিবি), ভেজাল খাদ্যোপকরণ উত্পাদন, আমদানি ও বিপণন, নিম্নমানের খাদ্য উত্পাদন, অনুমোদনহীন খাদ্যদ্রব্য সংযোজন বা প্রক্রিয়াকরণ সহায়ক দ্রব্যের ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য আমদানি, মজুদ, সরবরাহ বা বিক্রয়, শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
এই আইনে কোন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, মেয়াদোত্তীর্ণ কোন খাদ্যদ্রব্য আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ বা বিক্রি করতে পারবেন না। রোগাক্রান্ত বা পচা মাছ, রোগাক্রান্ত বা মৃত পশু-পাখির মাংস, দুধ বা ডিম দ্বারা কোন খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ বা বিক্রি করা যাবে না।
হোটেল রেস্তোরাঁয় সেবা প্রদানকারী অবহেলা বা অসতর্কতার মাধ্যমে খাদ্যগ্রহীতার স্বাস্থ্যহানি ঘটাতে পারবেন না। এছাড়া ছোঁয়াচে ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তির দ্বারা কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ প্রস্তুত, পরিবেশন বা বিক্রি   করা যাবে না।
এই আইনে কোন ব্যক্তি কোন খাদ্যদ্রব্য বিপণন বা বিক্রির উদ্দেশে বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্তিকর বা অসত্য তথ্য প্রদান করে ক্রেতার ক্ষতি সাধন করতে পারবেন না। আইনে কোন ব্যক্তি ট্রেডমার্ক আইনের অধীন নিবন্ধিত কোন ট্রেডমার্ক বা ট্রেডনামে বাজারজাতকৃত কোন খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণের অনুকরণে অননুমোদিতভাবে কোন নকল খাদ্যদ্রব্য বা খাদ্যোপকরণ উপাদান আমদানি, মজুদ, সরবরাহ বা বিক্রি করতে পারবেন না।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আইনে মামলা দায়েরের জন্য কারণ উদ্ভব হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে সরাসরি মামলা করতে পারবেন। এ আইনের অধীনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য আইনটিকে ‘মোবাইল কোর্ট-২০০৯’ এর তফসিলভুক্ত করা হচ্ছে।
আগের ‘পিওর ফুড অর্ডিন্যান্স-১৯৫৯’ বাতিল হবে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, তবে অধ্যাদেশের অধীন অনিষ্পন্ন কার্যক্রম, দায়ের করা মামলা ও এর আপিল অধ্যাদেশের অধীনেই চলবে। ১৯৫৯ অধ্যাদেশের অধীনে স্থাপিত ‘পিওর ফুড কোর্ট’ বর্তমান আইনের অধীনে ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত’ হিসেবে কাজ করবে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত গঠনের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যে নিরাপদ খাদ্য আইনের অধীনে ‘নিরাপদ খাদ্য (খাদ্য জব্দকরণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ পদ্ধতি) বিধিমালা-২০১৪’ প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক নীতিমালা, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দিতে খাদ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ৩০ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে।
পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী ‘নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কার্যাবলী সমন্বয় করবে। ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের তিনজন সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদফতর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ২৮ সদস্যবিশিষ্ট শক্তিশালী ‘কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি’ গঠিত হবে। এ কমিটি নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সকল সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে।
নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কারিগরি কমিটিও থাকবে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ প্রয়াজনীয় সংখ্যক খাদ্য বিশ্লেষক ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক নিয়োগ করবে। সাংবাদিক সম্মেলনে খাদ্য সচিব মুশফেকা ইকফাত্, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা তছির আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদে নিরাপদ খাদ্য বিল পাস হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ নভেম্বর আইন কার্যকর করতে খাদ্য মন্ত্রণালয়কে তিন মাসের সময় বেঁধে দিয়েছিল আদালত।