ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাশিয়ার ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়াতে একমত হয়েছেন। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক বিশেষ বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর এএফপি, আল-জাজিরা ও বিবিসির।
বৈঠকে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে সম্মত না হলেও চলমান নিষেধাজ্ঞার আওতায় নতুন কিছু নাম যোগ করার ব্যাপারে আলোচনা করতে রাজি হয়েছেন। রাশিয়ার একাধিক রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীর ইউরোপ ভ্রমণে এবং ব্যবসায় এ অবরোধ আরোপ করা হতে পারে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের ব্যাংক একাউন্ট ইউরোপের ব্যাংকগুলোয় রয়েছে, তাদের গচ্ছিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও নতুন সংঘাতের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয় বলে দাবি করেছে রাশিয়া।
সর্বশেষ খবর অনুসারে—দেবালতসেভের রেলস্টেশনের দখল নিয়ে ইউক্রেনীয় সেনা ও রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। এ রেলস্টেশনটি দোনেত্স্ক ও লুহানস্কের মধ্যকার যোগাযোগ রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ।
এ দিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেংকো সহিংসতা বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্তের পরই পোরোশেংকো এক ব্যক্তিগত চিঠির মাধ্যমে এ আহ্বান জানান।
অন্য দিকে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে নতুন হামলা থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরত রাখতে ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন মস্কোর ওপর আরো কঠোর আবরোধ আরোপেরও হুমকি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জ্যাক লি এক বিবৃতিতে পুতিনকে নিষেধাজ্ঞার এই হুমকি দেন। তবে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে এগুলোর কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।