সুজাতা সিংয়ের ওপর যে কারণে ক্ষুব্ধ মোদী

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গত ছয় মাস ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। আর এই বিভেদ সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদী সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংই দায়ী বলে মনে করেন। কারণ পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে মোদীর চাওয়া-পাওয়ার সঙ্গে সুজাতা সিংয়ের চাওয়া-পাওয়া মেলেনি।

নরেন্দ্র মোদী সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্র নীতিতে ইসরাইলকে গুরুত্ব দেন। শিল্পোন্নত ও নব্য শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অফিস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে মতপার্থক্যেও বিষয়টি ধরা পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও ভারত জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ইসরাইলের বিপক্ষে ভোট দেয়। যদিও এই সিদ্ধান্ত ছিল ভারতের পররাষ্ট্র নীতিরই একটা অংশ। কিন্তু বর্তমান সরকারের নীতির সঙ্গে এর মিল ছিল না। আর একারণেই প্রধানমন্ত্রী  নিউইয়র্কে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাত্ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জাপান সফরে মোদীর আশা পূরণ করতে পারেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনি জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় গভীর মনোযোগ দিলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি ছিল সেই তুলনায় ধীর। দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল ডেনমার্কের ক্ষেত্রেও। গুজরাট রাজ্যের ‘ভাইব্রান্ট গুজরাট’ অনুষ্ঠানে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মোদী। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর অফিসকে জানিয়ে দেয়া হয়, ১৯৯৫ সালের পুরুলিয়ার অস্ত্র সংক্রান্ত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ডেনমার্কের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের কোনো বৈঠক করা সম্ভব নয়। অথচ মোদী ব্যক্তিগতভাবে চেয়েছিলেন ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নতি করতে।

পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাজের ক্ষেত্রে সম্পর্ক গড়ে উঠলেও প্রধানমন্ত্রী অফিসের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের মতপার্থক্য বাড়ছিল। এসব কারণেই মেয়াদ শেষ হওয়ার সাত মাস আগেই কংগ্রেস আমলে দলটির নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর পছন্দে নিয়োগ পাওয়া সুজাতা সিংকে চলে যেতে হলো। গত বৃহস্পতিবার তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র দেন এবং চাকরি থেকেও অবসর নেন। তার স্থলে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জয়শঙ্করকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। মোদী মনে করছেন, জয়শঙ্কর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দেশটিতে ওবামার সফরের সময়ই সুজাতা সিংকে জানিয়ে দেয়া হয়, তার স্থলে জয়শঙ্করকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বৃহস্পতিবার এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক হয়েছে। তিনি সুজাতা সিংয়ের সঙ্গেও ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছেন বলে জানান। পররাষ্ট্র সচিব হওয়ার পর আজ প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীন সফরে যাচ্ছেন জয়শঙ্কর। এই সফরে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করা হবে।