সাগরে ৭ লাশ উদ্ধার এখনো অনেকে নিখোঁজ

কুতুবদিয়ার নিকটবর্তী গভীর বঙ্গোপসাগরে প্রায় ১শ’ যাত্রীসহ মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবির ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ৭ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধারকৃত লাশগুলো নিয়ে নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ কুতুবদিয়া উপকূলের দিকে রওয়ানা দিয়েছে। তবে সাড়ে ৫টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী জাহাজ কুতুবদিয়ায় এসে পৌঁছায়নি। এখনও নিখোঁজ রয়েছে প্রায় ৪০ জন।

কুতুবদিয়া থানার ওসি অংশাথোয়াই মার্মা বিকাল সোয়া ৫টা সময় জানান, লাশের অপেক্ষায় তার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘাটে অপেক্ষমাণ রয়েছে। কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী দলের কমান্ডার ফয়েজ ‘দৈনিক ইত্তেফাক’কে জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে কোস্টগার্ডের ২টি জাহাজ ছাড়াও নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ গতকাল সারাদিন সাগরে তল্লাশি চালিয়ে ৭টি লাশ উদ্ধার করেছে। লাশগুলো কুতুবদিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের জন্য পাঠানো হয়েছে।
উদ্ধারপ্রাপ্ত লাশের মধ্যে ২ জনের পরিচয় মিলেছে। তারা হলেনঃ মাহবুব রানা ও আবদুর রাজ্জাক। তাদের বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

বুধবার দুপুরে ২০ জন যাত্রী নিয়ে ‘এফবি ইদ্রিস’ মাছধরা ট্রলার চট্টগ্রাম বন্দরের ১৫নং জেটি থেকে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে যাত্রা করে। পথিমধ্যে ট্রলারটি বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া, পেকুয়া উপজেলার মগনামা ও করিয়ারদিয়া থেকে আরো ৭০ জনের মত যাত্রী নেয়। পরে ট্রলারটি আজ বৃহস্পতিবার ভোরে কুতুবদিয়া চ্যানেলের দক্ষিণ-পশ্চিম মোহনায় পৌঁছলে আকস্মিকভাবে ডুবে যায়। ট্রলারডুবির খবর পেয়ে কুতুবদিয়া কোস্টগার্ড স্টেশনের সদস্যরা তাদের নিজস্ব একটি জাহাজ ও স্থানীয় জেলেদের দুটি ট্রলার নিয়ে উদ্ধার তত্পরতা শুরু করে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তারা ৪৩ জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করতে সমর্থ হন। এরমধ্যে ৩২ জনকে কুতুবদিয়ায় এবং ১১ জনকে মহেশখালী নিয়ে আসা হয়। কুতুবদিয়ায় আনা মালয়েশিয়াগামীদের মধ্যে ৮ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুমন নামে নরসিংদীর এক যুবককে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সুমন জানান, ডুবে যাওয়া ট্রলারে ৯০ জনের মত যাত্রী ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, আরো ৪০ জনের মত নিখোঁজ রয়েছে।