সন্ত্রাস প্রতিহতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত ১৪ দলের

আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কঠোরভাবে প্রতিহত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, জনগণের শান্তি বিনষ্ট করার ন্যূনতম চেষ্টা কোন অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না। বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংসতা ও পেট্রোল বোমায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে গতকাল শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীসহ সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১৪ দলের উদ্যোগে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের দক্ষিণ গেটে জানাজা শেষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে আরো বলেন, এখন থেকে রাজপথে সতর্ক পাহারায় থাকবে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা। 

বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের দক্ষিণ গেটে বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা এম সালাউদ্দিনের ইমামতিতে অনুষ্ঠিত জানাজায় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ ফটকের সামনে থেকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের রাস্তা পেরিয়ে বঙ্গবন্ধু স্কয়ার পর্যন্ত চলে যায় জানাজায় অংশগ্রহণকারীদের             সারি। বায়তুল মোকাররম ও এর আশপাশের মসজিদে জুমা নামাজের পর মুসল্লিরা এ জানাজায় অংশ নেন। এছাড়া সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত জানাজায়ও বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। দ্বিতীয় দফার জানাজায় ইমামতি করেন ওলামা লীগের সভাপতি মাওলানা ইলিয়াছ হোসাইন বিন হেলালী। জানাজা শেষে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও পেট্রোল বোমায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত, অগ্নিদগ্ধদের আশু রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের উদ্যোগে রাজধানীসহ সারাদেশের প্রতিটি মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডাতে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের দক্ষিণ গেট এলাকায় গায়েবানা জানাজা শেষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক, কর্মচারী, পেশাজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের মহাসমাবেশ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশ নেন।
এর আগে জানাজা শেষে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, দেশের বর্তমান সহিংসতা বন্ধে সরকার যা যা করা দরকার তাই করবে। প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে। প্রয়োজনে তিনি তা প্রয়োগ করবেন।
আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণে সাধারণ মানুষ পুড়ে মরছে। আগুনে ঝলসে যাওয়া আহত মানুষের আর্তনাদ উনার কানে পৌঁছায় না। তোফায়েল আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া যেভাবে দেশের সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করছেন, তা জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ। অবিলম্বে হরতাল-অবরোধ বন্ধ না হলে জনগণ অরাজনৈতিক আচরণ প্রতিহত করবে। কারণ এটা চলতে পারে না। কোনোভাবেই চলতে দেয়া যায় না। তিনি বলেন, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এরমধ্যে সহিংসতা বন্ধ না করলে জনগণের আদালতে তার (খালেদা) বিচার হবে।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার খুনের রাজনীতি কেউ মানেন না। তার ডাকা অবরোধ-হরতালে কেউই সাড়া দিচ্ছে না। তবে চোরাগোপ্তা হামলার মাধ্যমে যেসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সন্ত্রাসীদের পরাজয় অবশ্যই হবে। তিনি বলেন, আগামী ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষার সময় ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যেতে পারে, পরীক্ষা দিতে পারে সেজন্য ১৪ দলের নেতাকর্মীরা এমপি-স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সারাদেশের পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পাহারা দেবেন। হরতাল-অবরোধ অব্যাহত থাকলে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো পাহারা দিয়ে সন্ত্রাসীদের ঠেকাবে। বিএনপির উদ্দেশে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আন্দোলনের নামে অনেক মানুষ হত্যা করেছেন, এবার থামুন। নইলে জনগণ রাজপথে নামলে পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের প্রতি ঘৃণা জানাতে এবং সহিংসতায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় প্রতিবাদী জনতা জানাজায় অংশ নিয়েছেন। হরতাল-অবরোধের বিরুদ্ধে সারাদেশে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, বিএনপি-জামায়াত সেই মুহূর্তে অবরোধের নামে জঘন্য সহিংসতা করছেন।
বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের দক্ষিণ গেটে অনুষ্ঠিত জানাজায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহিম, মফিজুল হক বেবু, এজাজ আহমেদ মুক্তা, অতিরিক্ত মহাসচিব সাদেক সিদ্দিকী, দপ্তর সম্পাদক এম. সালাহউদ্দিন আহমেদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলাম, জাসদ নেতা মাইনুদ্দিন খান বাদল এমপি।
প্রসঙ্গত, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিতে ৫ জানুয়ারি কর্মসূচি পালনে ব্যর্থ হয়ে সারা দেশে লাগাতার ‘অবরোধ’র ডাক দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলমান ‘অবরোধে’  নাশকতা ও সহিংসতায় অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। যানবাহনে দেয়া আগুন ও পেট্রোল বোমায় দগ্ধ বহু মানুষ এখন হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছেন।
চট্টগ্রামে লালদীঘি ময়দানে গায়েবানা জানাজা
চট্টগ্রাম অফিস:গায়েবানা জানাজা উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘির ময়দানে ১৪ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটে। সমবেতরা ২০ দলীয় জোটের ডাকা কর্মসূচি চলাকালে তাদের নেতা-কর্মীদের নাশকতামূলক তত্পরতায় যেসব মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন। যারা চিকিত্সাধীন আছেন এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে আল্লাহর কাছে মোনাজাত করেন।
গায়েবানা জানাজায় সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, এদেশকে পাকিস্তান বানাতে চক্রান্ত শুরু হয়েছে। একাত্তরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই চক্রান্ত রুখে দিতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগরী আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, এভাবে যাতে আর কোন মানুষের মৃত্যু না হয় সেজন্য দোয়া করি। পাশাপাশি বিরোধী দলেরও যেন শুভবুদ্ধি উদয় হয় এবং তারা যেন মানুষ মারা বন্ধ করে।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন, সম্পাদক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ সালামসহ ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ।