‘নাশকতা ও সন্ত্রাস দমনে সরকার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে’

 
 
 
 
 
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কাছে সরকার মাথা নত করবে না জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘নাশকতা ও সন্ত্রাস দমনে সরকার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছে। জনগণের নিরাপত্তার জন্য যে চ্যালেঞ্জ নেয়া দরকার, সরকার তা নিয়েছে।’
শনিবার রাজধানীতে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এ সব কথা বলেন। ডিআরইউর সাগর-রুনি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া আসলে কী চান, তা তাকে স্পষ্ট করে বলতে হবে। তিনি সংলাপ চান, নির্বাচন চান, না কি এই মুহূর্তে সরকারের পতন চান, তা স্পষ্ট করে বলতে হবে। যদি তিনি সংলাপ চান, তাহলে অবশ্যই তাকে গণতন্ত্রের ক্লাবের গেটপাস নিয়ে আসতে হবে, গণতন্ত্র ক্লাবের সদস্য হতে হবে। এ জন্য খালেদা জিয়াকে সহিংসতা, জঙ্গিবাদ, যুদ্ধাপরাধী, রাজাকারদের সঙ্গ ছেড়ে সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। আর যদি তিনি এ মুহূর্তে সরকারের পতন চান, তাহলে তো আর কোনো কথা থাকে না, কোনো সংলাপেরও প্রয়োজন নেই।’
খালেদা জিয়া নিজেকে রাজনীতিতে ‘ভিলেন’ হিসেবে আবির্ভূত করেছেন মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি এখন সন্ত্রাসবাদের নেত্রীতে পরিণত হচ্ছেন। তার অস্থিরতা দেখে মনে হয়—কোনো গোপন এজেন্ডা রয়েছে। কী তার গোপন এজেন্ডা? তিনি কি চান একটি অসাংবিধানিক, অস্বাভাবিক শক্তিকে ক্ষমতায় বসিয়ে গণতান্ত্রিক ও সংবিধানের ধারাকে ব্যাহত করতে? তিনি কি চান যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকাজ বন্ধ করে দিয়ে তাদের মুক্ত করে দিতে?’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালে যেভাবে পাকিস্তানিরা দেশের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। ঠিক একইভাবে বিএনপি-জামায়াত এখন জনগণের ওপর আক্রমণ করছে।’
‘তবে সরকারের হস্তক্ষেপে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সহিংসতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসছে’ দাবি করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১০ দিনের চেয়ে দেশে সহিংসতা অনেকাংশে কমে এসেছে। হরতাল-অবরোধে দেশের মানুষের জীবনযাপন স্বাভাবিক রয়েছে।’
‘নাশকতার’ দায়ে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হবে কিনা—সাংবাদিকদের এক প্রশ্নর জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে প্রশাসন সময়মতো সিদ্ধান্ত নেবে।’
খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ের বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি এইমাত্র জানতে পারলাম ঘটনাটি। যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা না বলে কোনো মন্তব্য করা উচিত হবে না।’
তথ্যমন্ত্রী বিগত সময়ের চেয়ে বর্তমানে গণমাধ্যম যথেষ্ঠ স্বাধীনতা ভোগ করছে দাবি করে বলেন, ‘দিগন্ত টিভি, আমার দেশ পত্রিকা, ইসলামী টিভি বন্ধ থাকাটা গণমাধ্যমের ওপর হস্তক্ষেপ না। এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয় জড়িত থাকায় এ সব গণমাধ্যম বন্ধ রয়েছে।
এখন পর্যন্ত সাগর-রুনি হত্যার বিচার না হওয়ায় তথ্যমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডটির তদন্তে প্রশাসনের ব্যর্থতা গ্রণযোগ্য নয়। আশা করি—অতি দ্রুত প্রশাসন সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করবে।’